শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

স্বাস্থ্য

আজ বিশ্ব এইডস দিবস, এবার সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা

দেশে গত এক বছরে (২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর) এইডসে মারা গেছেন ১৯৫ জন। এ বছর নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) পজিটিভ শনাক্তের পর এবার এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (টিবি-এল অ্যান্ড এএসপি) সূত্রে […]

নিউজ ডেস্ক

০১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৩৮

দেশে গত এক বছরে (২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর) এইডসে মারা গেছেন ১৯৫ জন। এ বছর নতুন করে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস) পজিটিভ শনাক্তের পর এবার এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (টিবি-এল অ্যান্ড এএসপি) সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আজ ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। এ উপলক্ষে দেশের এইডসসংক্রান্ত নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশ্ব এইডস দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘অধিকার নিশ্চিত হলে, এইচআইভি/এইডস যাবে চলে’।

এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এ বছর এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে বয়সে তরুণদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্তের হার বেড়ে গেছে। বিবাহিতদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি।

এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং হিজড়াদের মধ্যেও সংক্রমণ কমছে না। তরুণ বয়সী এবং হিজড়া ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ঝুঁকির মধ্যে আছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৯৮৯ সালে এক ব্যক্তির এইচআইভি শনাক্ত হয়। এরপর প্রতিবছরই এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। দু-এক বছর এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কমে গেলেও বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাই ছিল বেশি। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের বছর বাদ দিলে গত ১০ বছরে এইচআইভিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭৬। সে অনুযায়ী, চলতি বছর ১৬২ জন রোগী বেড়েছে।

চলতি বছর নতুনভাবে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ ভাগেরই বয়স ২৫ থেকে ৪৯ বছর। আর ২১ ভাগের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর। গত বছর এই তরুণ বা ১৯ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ছিল ১৬ ভাগ।

এ বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে ১০ শতাংশ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। গত বছর এ হার ছিল ১২ শতাংশ। মোট সংক্রমণের ১ শতাংশ হিজড়া। গত বছরও তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার এমনই ছিল।

 

এই তিন গোষ্ঠীসহ সমকামী, নারী যৌনকর্মী, শিরায় মাদক সেবনকারীরাও এইচআইভির ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

গত বছর বিবাহিতদের মধ্যে সংক্রমণের হার ছিল ৬০ শতাংশ। আর অবিবাহিতদের মধ্যে তা ছিল ৩১ শতাংশ। গত বছরের মতো এবারও ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে এইচআইভিতে।

গত বছর এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬৬। এবার এ সংখ্যা ১৯৫ বিষয়েও নজর দেওয়া দরকার।

দেশের প্রায় সব জেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে এইচআইভি সংক্রমণ পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও উপজেলা হাসপাতালে তা নেই। উপজেলা পর্যায়ে এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

স্বাস্থ্য

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন হাসপাতালে দ্বিগুণ হারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভর্তি হচ্ছেন। বিদ্যমান শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাধীন থাকে। দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী হাসপাতালে আসছে। এ সব রোগীর […]

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট

০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন হাসপাতালে দ্বিগুণ হারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভর্তি হচ্ছেন। বিদ্যমান শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাধীন থাকে। দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী হাসপাতালে আসছে। এ সব রোগীর বেশির ভাগ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বেডের তুলনায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। হাম রোগীর চিকিৎসাসেবা সামাল দিতে গিয়ে ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে এ বছর ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। হাম ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাছে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, ২৬০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে পাঁচ সহস্রাধিক রোগী। এর মধ্যেই হাম রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন হাম ও ডেঙ্গু রোগী আসছে। এ সব রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অধিকাংশ ডাক্তার ও নার্স কর্মচারীদের ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। বিরামহীনভাবে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৭২৯ জন। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পহেলা জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন। এক সপ্তাহে বেশ কয়েক জন ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেলেও অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তালিকায় তাদের নাম নেই।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, রাজধানীর বাসিন্দাদের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এডিস মশা বংশবিস্তার হচ্ছে। এই মশা কামড়ালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হবে বলে কীটতত্ত্ববিদরা জানান। গত বছর দেশ জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে বরগুনা জেলাকে শনাক্ত করা হয়। গত বছর গ্রাম অঞ্চলে এডিস মশার বংশবিস্তারে ভয়াবহ পরিস্থিতি ধরা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রোগ তথ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছিল। অধিকাংশ সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

আইইডিসিআরের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. গোলাম ছারোয়ার বলেন, দেশব্যাপী এডিস মশা বংশবিস্তারে ঘনত্ব নির্ণয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম নিতে হবে। এ বছর গ্রাম অঞ্চলের ব্যাপক হারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এডিস মশার নিধন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

রাজশাহী নগরীতে এডিস মশা প্রজনন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে দেখা গেছে, নগরীর এডিস প্রজনন সূচক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকি সীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, রাজধানী বাসিন্দাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এ বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। মশক নিধন কার্যক্রম এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মোস্তাক হোসেনও গ্রামাঞ্চলের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একই মতামত পোষণ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহাসান বলেন, ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এডিস মশা নিধন নিয়ে একাধিক বার বৈঠক করেছেন। মশক নিধনে যা যা করণীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

বাতাসে ভাসমান অদৃশ্য সূক্ষ্ম ধূলিকণাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় নীরব ঘাতক। এই বিষাক্ত বাতাসের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রাণহানির পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে কর্মক্ষমতা, কমছে উৎপাদনশীলতা এবং প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশে বায়ুদূষণের […]

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০

বাতাসে ভাসমান অদৃশ্য সূক্ষ্ম ধূলিকণাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় নীরব ঘাতক। এই বিষাক্ত বাতাসের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন।

প্রাণহানির পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে কর্মক্ষমতা, কমছে উৎপাদনশীলতা এবং প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেইঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট।

সম্প্রতি ইউনিটের একটি গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল- এই ছয়টি প্রধান শহরের পিএম২.৫ বা সূক্ষ্ম বস্তুকণাজনিত বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণার ফল বলছে, শুধু এই ছয়টি শহরেই বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে পিএম২.৫ দূষণের কারণে। অর্থাৎ প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন প্রাণ হারাচ্ছেন বায়ুদূষণের প্রভাবে।

এই দূষণের অর্থনৈতিক মূল্যও কম নয়।

গবেষকদের হিসাবে, বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় পাঁচ শতাংশের সমান।

স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন হৃদরোগে- প্রায় ৩৭ হাজার ৫১৯ জন।

এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জনের মৃত্যু ঘটছে প্রতি বছর।

শহরভিত্তিক চিত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকা।

গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকায় বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ মানুষের অকালমৃত্যু পিএম২.৫ দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)।

গবেষণায় ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ঢাকায়, যেখানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে পিএম২.৫ দূষণের কারণে।

গবেষকদের মতে, এটি নগরাঞ্চলের বায়ুমানের দ্রুত অবনতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

গবেষক দলের প্রধান মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, এটি একই সঙ্গে একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট। বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু এবং জিডিপির প্রায় পাঁচ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই ক্ষতি আরও বাড়বে।’

তবে গবেষণাটি আশার কথাও বলছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুর গুণগত মান নির্দেশিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এ জন্য তারা পিএম২.৫ নির্গমন কমাতে প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণ, শিল্প ও যানবাহনসহ বিভিন্ন দূষণ উৎস নিয়ন্ত্রণ, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।