শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অর্থনীতি

১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি জনতা ব্যাংকে

অবশেষে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপি হলেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি খেলাপির বাইরে ছিলেন। কিন্তু আর রক্ষা হলো না। এই প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপির তালিকাভুক্ত করা হলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান শুধু জনতা ব্যাংকের এক শাখা থেকেই ঋণের নামে বের করেছেন প্রায় […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:২৭

অবশেষে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপি হলেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি খেলাপির বাইরে ছিলেন। কিন্তু আর রক্ষা হলো না। এই প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপির তালিকাভুক্ত করা হলো।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান শুধু জনতা ব্যাংকের এক শাখা থেকেই ঋণের নামে বের করেছেন প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। যা ওই শাখার মোট ঋণের ৬৫ শতাংশ।

এরই মধ্যে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি হয়ে গেছে। এসব ঋণের অধিকাংশই ছিল বেনামি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিয়ে বেনামি ঋণগুলো তার নামে সংযুক্ত করেছে। চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন ও জনতা ব্যাংকের নথি ঘেঁটে পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে এক ব্যাংকার  জানান, বেনামি ঋণের জনক ছিলেন সালমান এফ রহমান। যা ধীরে ধীরে পুরো ব্যাংক খাতে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের বেশিরভাগ ঋণই বেনামি। এখন প্রায় সব অসাধু ব্যবসায়ীর বেনামি ঋণ রয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে লুটপাটের বেশিরভাগই বেনামি ঋণ। অর্থাৎ ঋণ নেন একজন, ভোগ করেন অন্যজন। প্রকৃত সুবিধাভোগী থাকেন সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত সব ধরনের বেনামি ঋণ খুঁজে বের করা। তা না হলে ব্যাংক খাত টিকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে বেক্সিমকো গ্রুপ এবং গ্রুপ সম্পর্কিত মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। এছাড়া সুকুক বন্ডের নামে নেওয়া হয় ২২০ কোটি টাকা। এসব ঋণের বেশিরভাগই ২০২১, ২২ ও ২৩ সালে নেওয়া।

এর মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার গার্মেন্টস ৬০৯ কোটি, এ্যাপলো অ্যাপারেলস ৭৯৮ কোটি, অটামলুপ অ্যাপারেলস ৮২২ কোটি, বে সিটি অ্যাপারেলস ৮৯২ কোটি, বেক্সিমকো লিমিটেড ২ হাজার ২১৬ কোটি, বেক্সিমকো পিপিই ২৬ কোটি, বেক্সিমকো ফ্যাশনস ৯৩৬ কোটি, বেক্সটেক্স গার্মেন্টস ৮৮৫ কোটি, কসমোপলিটান অ্যাপারেলস ৯৬১ কোটি, কজি অ্যাপারেলস ৯০৬ কোটি, ক্রিসেন্ট ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন ১ হাজার ৬৯০ কোটি, এসকর্প অ্যাপারেলস ৮১৯ কোটি, অ্যাসেস ফ্যাশনস ১ হাজার ৭৫৮ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলস ১ হাজার ২৫০ কোটি।

ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলস ইউনিট-টু ৬৪৯ কোটি, কাঁচপুর অ্যাপারেলস ৭৫৯ কোটি, মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস ৭৩২ কোটি, নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ ১ হাজার ৬৮৬ কোটি, পিয়ারলেস গার্মেন্টস ৯৬০ কোটি, পিংক মেকার অ্যাপারেলস ৯০২ কোটি, প্লাটিনাম গার্মেন্টস ৮৩৭ কোটি, শাইনপুকুর গার্মেন্টস ৩৩৩ কোটি, স্কাই নেট অ্যাপারেলস ৭৩৮ কোটি, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস ৭৬০ কোটি, আরবান ফ্যাশনস ৭০৪ কোটি, হোয়াইট বে অ্যাপারেলস ৮৮৫ কোটি, ইউন্টার স্প্রিন্ট গার্মেন্টস ৭৭২ কোটি, ইয়োলো অ্যাপারেলস ১ হাজার ৫০ কোটি, ক্রিসেন্ট অ্যাকসেসরিজ ৯৬ কোটি, আর আর ওয়াশিং ৯৭ কোটি, এসকর্প এলপিজি ১১ কোটি ও বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস ৩৬০ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই বেনামি প্রতিষ্ঠান ছিল। পরে এগুলোকে বেক্সিমকো গ্রুপভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, একজন গ্রাহক ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ঋণ নিতে পারেন। এছাড়া ঋণ নিতে বিভিন্ন হারে জামানত রাখতে হয়। এখানে সেসবের কিছুই মানা হয়নি। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে এসব ঋণ নিয়েছেন সালমান এফ রহমান। এ ক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করেছেন ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। আবার পরিচালনা পর্ষদ এবং এমডির নির্দেশনা থাকলে অনেক সময় কর্মকর্তাদেরও কিছু করার থাকে না।

বিপুল অঙ্কের এসব ঋণ নেওয়ার সময় জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন আব্দুছ ছালাম আজাদ। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন পলাতক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি অর্থ সচিব থেকে গভর্নর থাকা পর্যন্ত পুরোটা সময় আব্দুছ ছালাম আজাদকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। যে কারণে আব্দুছ ছালাম আজাদকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন সাবেক গভর্নর ফজলে কবির।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন  বলেন, তিনি তো এখন মানুষ খুনের অভিযোগে জেলে আছেন। আর্থিক অপরাধের জন্যও তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। আবার এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের এমডি, পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকও জড়িত। কারণ এত টাকা এক শাখা থেকে কারও অগোচরে বের করেননি। সবাই জানেন।

সুতরাং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সবার শাস্তি হওয়া উচিত। তার আগে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। জামানত থেকে থাকলে সেটা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। আর শুধু এক শাখা নয়, কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, সব বের করতে হবে।

অর্থনীতি

যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারে রেকর্ড, টোল আদায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যমুনা সেতু দিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় ৮২ হাজার ৬০১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায় হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবার বিকেল থেকে […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ মার্চ ২০২৬, ২১:২২

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যমুনা সেতু দিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় ৮২ হাজার ৬০১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায় হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবার বিকেল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

বর্তমানে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন সড়ক সুবিধা পাচ্ছেন যাত্রীরা। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকাগামী যানবাহন ছিল ১৯ হাজার ৪৪৫টি। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ দিক থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা।

সব মিলিয়ে একদিনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।

যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৯ থেকে ১৮টি বুথ চালু রেখে গাড়ি পারাপার করানো হচ্ছে। এছাড়া সেতুর দুই প্রান্তে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুটি করে বুথ রাখা হয়েছে।

অর্থনীতি

আরও একটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল এলো বাংলাদেশে

দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা চাপে থাকলেও এর মধ্যেই আরও একটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে দেশে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন […]

আরও একটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল এলো বাংলাদেশে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩

দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা চাপে থাকলেও এর মধ্যেই আরও একটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে দেশে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, জাহাজে আনা ডিজেল পরিবহণ ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিলম্বের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে তেল নিয়ে ১৭টি জাহাজ দেশে আসার কথা ছিল। এর আগে এসেছে আটটি। আর আজ এলো একটি জাহাজ।

জাহাজ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে জাহাজটি আজ সকালে দেশে এসেছে। এখন জ্বালানিসংকট নেই। বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

বিপিসি সাধারণত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে।

মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়, বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়। ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি দেশ থেকে।

এদিকে জানা গেছে, আগামী এপ্রিলে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে, এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এছাড়া, আগামী মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে তিন লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে।

অর্থনীতি

মার্চে এসেছে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

এ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪৬ হাজার ৯২ কোটি টাকা (ডলারপ্রতি ১২২.৭৫ হিসাবে)। ইতিহাসে এই প্রথম পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে। সে মাসে প্রবাসীরা মোট ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স […]

মার্চে এসেছে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

মার্চে এসেছে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

নিউজ ডেস্ক

০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৯

এ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪৬ হাজার ৯২ কোটি টাকা (ডলারপ্রতি ১২২.৭৫ হিসাবে)। ইতিহাসে এই প্রথম পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে। সে মাসে প্রবাসীরা মোট ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। মূলত রোজা ও ঈদের মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। গত বছর ২ মার্চ পবিত্র রমজান শুরু হয়ে ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়। আর চলতি বছর রমজান শুরু হয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়ে গেলেও এখনো রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহ অব্যাহত আছে। ঈদুল ফিতরের পর ব্যাংক খোলে ২৪ মার্চ। পরবর্তী আটদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৯৩ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে চলতি মার্চে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ শতাংশ।

এ নিয়ে টানা চার মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ডলার। এরপর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। এরপর ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় আসে ৩০২ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে এখন পর্যন্ত পাঁচবার ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। আর প্রথমবারের মতো এবার সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ।

অর্থ পাচার কমে আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকেই বৈধপথে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন এবং এক্ষেত্রে তারা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন। আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

রেমিট্যান্সের এ প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে দেশের রিজার্ভের ভিতও মজবুত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের বর্তমান গ্রস রিজার্ভ (১ এপ্রিল পর্যন্ত) ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী এটি ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।