বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গণধর্ষণের বিচারের দাবিতে উত্তাল গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

গবি সংবাদদাতা : সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) আইন বিভাগের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল পুরো ক্যাম্পাস। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার ( ৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—গকসু ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতা ও দায় এড়ানোর অভিযোগ তুলে […]

গণধর্ষণের বিচারের দাবিতে উত্তাল গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:২৬

গবি সংবাদদাতা :

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) আইন বিভাগের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল পুরো ক্যাম্পাস। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার ( ৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—গকসু ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতা ও দায় এড়ানোর অভিযোগ তুলে দ্রুত বিচার এবং প্রক্টোরিয়াল বডি পুনর্গঠনের দাবি জানান। এসময় প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এাময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন—‘বাহ্ ভিসি চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’, ‘ধর্ষকদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাস হবে না’, ‘অন্তুরদের চামড়া তুলে নিব আমরা’, ‘ফাঁসি চাই, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই’, ‘বিচার চাই, রিমন দালালের বিচার চাই’, ‘এক দফা এক দাবি, ভিসি তুই বাহির হবি’।

পরে ১১টা ৪৫ মিনিটে আন্দোলনকারীরা আইন বিভাগে গিয়ে শিক্ষক লিমন হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান খান বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ। আমরা সবাই চাই আপনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চলে যান।”

শিক্ষার্থীরা বলেন, “ধর্ষকের ফাঁসি চাই, প্রক্টোরিয়াল বডির পদত্যাগ চাই, লিমন হোসেনকে চাকরিচ্যুত করতে হবে। বিচার না হলে ভিসির পদত্যাগ চাই।”

গকসুর সমাজ কল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, “প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার কারণে আইন বিভাগের অন্তু এত সাহস পেয়েছে। তিনি হলেন ভিসি স্যার। সুষ্ঠু টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ক্যান্টিনের দায়িত্ব অন্য একজন পেলেও ফার্মেসি বিভাগের সিহাব, সম্রাট ও আইন বিভাগের অন্তু তা বন্ধ করতে চেয়েছিল। আমি ভিসি স্যারকে বললে তিনি আমাকে বলেন—‘অন্তর, তুমি ওদের সঙ্গে নেগোসিয়েশনে যাও।’ অথচ অন্তু ক্যান্টিন মালিকের কাছে এক লাখ টাকা চেয়েছে এবং আমাকেও টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর সঙ্গে আমি কিভাবে নেগোসিয়েশন করি?”

তিনি আরও বলেন, “এমন একজন শিক্ষক যদি প্রশাসনের প্রধান হন, বিশ্ববিদ্যালয় ঠিকভাবে চলতে পারে না। তিনি আমার সংসদের প্রধান হলেও তার পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি চলে গেলে সংসদ ভেঙে গেলেও আপত্তি নেই।”

সাম্প্রতিক র‍্যাগিং ইস্যু নিয়েও তিনি ভিসির ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “র‍্যাগিং প্রতিবেদনে যৌন হেনস্তার বিষয় উল্লেখ নেই—জিজ্ঞেস করলে ভিসি স্যার বলেন, ‘প্যান্ট খোলার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু খোলেনি।’ অথচ ভুক্তভোগী নিজেই যৌন হেনস্তার কথা বলেছে। প্রতিবেদন থেকে এই অংশ বাদ গেলো কীভাবে? তখন ভিসি স্যার আমাকে বলেন—‘এসবের জবাব আমি তোমাকে দিতে বাধ্য নই।’”

গকসুর সাধারণ সম্পাদক রায়হান খান বলেন, “আমরা ছাত্রদের ভোটে নির্বাচিত। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে হলেও আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব।”

তিনি আরও বলেন, “আইন বিভাগের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তদন্ত করলে দেখা যাবে—অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা এ ঘটনায় জড়িত। এটা লুকানোর সুযোগ নেই।”

প্রক্টোরিয়াল বডির প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে রায়হান বলেন, “আপনাদের মেরুদণ্ড সোজা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপদ হবে না। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে ছেড়ে দিন। নতুন, শক্তিশালী প্রক্টোরিয়াল বডি গঠন করতে হবে এবং ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীকে সব ধরনের সহায়তা দিতে হবে। এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যেন ভবিষ্যতে কোনো ছাত্রীকে নিয়ে হাসাহাসির সাহস কেউ না পায়।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এখন ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীরা এমনভাবে নড়িয়ে দেবে যে দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না।”

রায়হান আরও বলেন—“বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা ও কর্মসূচি বর্জন থাকবে।”

গকসুর সহ–সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন মৃদুল দেওয়ান জানান, “আমার বোন ৭ মাস আগে আইন বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল, কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। রফিকুল স্যারকে বলছি—সব শিক্ষার্থীর সামনে সেই লিখিত অভিযোগটি পড়ে শোনাবেন এবং একই কাগজের অন্য পাশে আপনার পদত্যাগপত্র লিখে আনবেন। এই ঘটনায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।”

এর আগে, গতকাল আশুলিয়া থানায় এক ছাত্রী পিকনিকের কথা বলে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গ্রেপ্তার চারজন হলেন—দেলোয়ার ভূঁইয়া (২৬), তাজুল ইসলাম তাজ (২৩), শ্রাবণ সাহা (২৩) ও অন্তু দেওয়ান (২৮)। তাঁরা গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী।

এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে অচেতন করে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৯৬ হাজার টাকা আদায় করে। ৬ নভেম্বর তাঁকে আবার আটকে রেখে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করতে চায়। এতে রাজি না হলে মারধর করা হয় এবং নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।