শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নানা আয়োজনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন 

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) ‘স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাড়ান’ প্রতিপাদ্যে র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন। মঙ্গলবার (৭ই এপ্রিল) সকালে গণস্বাস্থ্য ও গবি’র যৌথ আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব […]

নানা আয়োজনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন 

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৫

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) ‘স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাড়ান’ প্রতিপাদ্যে র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন।

মঙ্গলবার (৭ই এপ্রিল) সকালে গণস্বাস্থ্য ও গবি’র যৌথ আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন।

এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে র‍্যালি বেরিয়ে মূল ফটক হয়ে গণস্বাস্থ্যের পিএইচএ ভবনে গিয়ে শেষ হয়। পরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান সহ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবি ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পরে পিএইচএ ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ‘স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাড়ান’ প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভায় এন্ট্রি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এর সচেতনতা, ব্যবহারের দিক ও কার্যকারীতা, প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদুল হক শিকদার আলোচনায় বলেন, ‘ওয়ান হেলথ এমন একটি সমন্বিত ধারণা, যেখানে মানুষের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখা হয় না; বরং পশুপাখি, পরিবেশ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থার সাথে একসূত্রে বিবেচনা করা হয়। এই ধারণার ভেতরে ফিজিওথেরাপি, ফার্মাসিউটিক্যালস, হাসপাতাল সেবা সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ, চিকিৎসা শুধু একজন ডাক্তার বা একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয় এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে বিভিন্ন খাত একসাথে কাজ করে।’

প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারের প্রতিপাদ্য “Together for Health, Stand with Science”। এমন একটি আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারা সত্যিই সৌভাগ্যের, বিশেষ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-এর মতো প্রতিষ্ঠানে, যা স্বাধীনতার সময় থেকে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের সময়, পরে ১৯৭২ সালে সরকারি জমি বরাদ্দের মাধ্যমে তা আরও বিস্তৃত হয়। সম্প্রতি জাফরুল্লাহ চৌধুরী-কে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে যা তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি।

তিনি বিশ্বাস করতেন, স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে ঘরে ঘরে, শুধু বড় শহরে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।তিনি শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের সম্পদ। তাঁর আদর্শদেশের মধ্যেই চিকিৎসা গ্রহণ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ওয়ান হেলথ এর অবস্থা সামনে বিপদজনক হতে পারে আমাদের একত্রিতভাবে সেই বিপদ মোকাবেলা করতে হবে।ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশসহ বিশ্বের মানুষের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ঝুকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক সচেষ্ট।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘ওয়ান হেলথ আজকের আলোচিত ধারণা হলেও বহু আগেই জাফরুল্লাহ চৌধুরী মানুষের সাথে পশুপাখি ও পরিবেশের সমন্বিত স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন।

সুস্থ সমাজ গড়তে এই তিনটির ভারসাম্য অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, সামান্য উপসর্গ বললেই ফার্মেসি থেকে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে যা আমাদের জন্য বড় ধরণের ক্ষতি। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনা বন্ধ ও কঠোর মনিটরিং জরুরি।’

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আধ্যাপক ডা. মেসবাহ্ উদ্দিন আহমেদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।