শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

সমস্যায় জর্জরিত জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, ১০ মাস আগের ৬১ লাখ টাকার ফাইল ঘুরছে ইউজিসিতে

নানান সীমাবদ্ধতা ও সংকটে জর্জরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। যা নিরসনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কাছে প্রায় ১০ মাস আগে থেকেই আবেদনের ফাইল পাঠিয়েছে জবির অর্থ ও হিসাব দপ্তর। কিন্তু এখন পর্যন্ত অন্ধকারেই পরে রয়েছে জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উন্নয়ন বরাদ্দ। ফলে নতুন করে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে জবি প্রশাসন।

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০০:২৬

রোকুনুজ্জামান, জবি

নানান সীমাবদ্ধতা ও সংকটে জর্জরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। যা নিরসনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কাছে প্রায় ১০ মাস আগে থেকেই আবেদনের ফাইল পাঠিয়েছে জবির অর্থ ও হিসাব দপ্তর। কিন্তু এখন পর্যন্ত অন্ধকারেই পরে রয়েছে জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উন্নয়ন বরাদ্দ। ফলে নতুন করে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে জবি প্রশাসন।

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি পর্যবেক্ষণ পূর্বক সরজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ তলা বিশিষ্ট সাজিদ ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটিতে শিক্ষার্থীদের তুলনায় নেই পর্যাপ্ত আসন। যার ফলে লাইব্রেরিতে থাকা ২৬০ টি আসনে শুধুমাত্র যারা শুরুতে আসেন সেসব শিক্ষার্থীই জায়গা পান। এছাড়াও পর্যাপ্ত সংখ্যক ফ্যান না থাকায় শিক্ষার্থীদের তীব্র গরমে পড়াশুনায় অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আবার কাগজ সত্যায়িত করা সহ বিভিন্ন কাজের জন্য লাইব্রিরর মাঝখান দিয়ে অফিসে লোকজন যাওয়া আসা করায় লাইব্রেরির পড়াশুনা উপযোগী নিরব পরিবেশ বিনষ্ট হয়।

এছাড়াও লাইব্রেরিতে আলো-বাতাসের প্রবেশের সেরকম সুযোগ নেই। কারন জানালার পাশের দিকে লাইব্রেরির কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র লাইব্রেরির অফিস কর্মকর্তাদের রুমে স্থাপন করা এসি এবং জানালা দিয়ে প্রবেশকৃত আলো-বাতাস উভয় থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যা পড়াশুনা উপযোগী একটি পরিবেশ তৈরির সবচেয়ে বড় অন্তরায় বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

পাশাপাশি লক্ষ্য করা যায়, লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াশরুমের সংকট রয়েছে এবং ব্যাগ রাখারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ সময় তাদের ব্যাগগুলো লাইব্রেরির পাশের গ্রিলে বা দরজার বাইরে মেঝেতে রাখতে হয়।

এসব সমস্যা সমাধানে ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বরে জবির অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আবদনে লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক ভোগান্তিগুলো তুলে ধরে ৬১,৯২,৭৬২ (একষট্টি লক্ষ বিরানব্বই হাজার সাতশত বাষট্টি) টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়, লাইব্রেরিটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে দরজা-জানালা না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে না বিধায় ভ্যাপসা অবস্থা বিরাজ করে, যা লাইব্রেরীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীরা এসি স্থাপনের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছে এবং বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার আন্দোলন ও করেছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও লাইব্রেরীর বর্তমান পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে জরুরী ভিত্তিতে এসি স্থাপন করা আবশ্যক।

তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর পড়া-লেখার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে এসি স্থাপন ও বৈদ্যুতিক কাজ বাবদ ৬১,৯২,৭৬২/- (একষট্টি লক্ষ বিরানব্বই হাজার সাতশত বাষট্টি) টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ প্রদানের অনুরোধ করা হয়।

কিন্তু আবেদনের প্রায় ১০ মাস পরেও আলোর মুখ দেখেনি জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সেই উন্নয়ন বরাদ্দ। ফলে লাইব্রেরির নানাবিধ সমস্যা ও সীমাবদ্ধতায় ক্ষুব্ধ হয়ে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দিন আগেই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আমরা এই আবেদনটি করেছিলাম। কিন্তু ইউজিসি সেই বরাদ্দ এখনও অনুমোদন করেনি। যার ফলে এতোদিন লাইব্রেরিতে এসি স্থাপনসহ সার্বিক আরো কিছু কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।”

সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর জকসুসহ লাইব্রেরি ও ক্যান্টিনের মানোন্নায়নের ৩ দফা দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেন জবির কিছু শিক্ষার্থীরা। যার ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে লাইব্রেরির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আবেদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

লাইব্রেরির উন্নয়ন কার্যক্রমের সর্বশেষ গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “ইতোমধ্যেই লাইব্রেরির বাথরুমের কিছু কাজ আমরা করেছি। এরপরও এসি স্থাপনসহ অনেক কাজ বাকী। যেগুলোর চাহিদাপত্র সহ সকল ডকুমেন্টস রেডি করে আমরা জমা দিয়েছি। আশা খুব দ্রুতই দৃশ্যমান কাজ শিক্ষার্থীরা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।”

বিষয়ঃ

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব।  বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৩

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাথায় ৬টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রমতে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে। সেখানে খোলামেলাভাবে গাঁজা খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সদস্য সচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে জেরা করে। পরে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। চারুকলা বিভাগের সেই শিক্ষার্থীরা আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারী। এরপরে আহ্বায়ক হাবিবের এক মিছিলে এই ঘটনার রেশ ধরে রাতুল ও সদস্য সচিবের অন্যান্য অনুসারীদের সাথে পুণরায় বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনার সময় সদস্য সচিব মামুন সরকারকে নিয়ে কটু কথা বলার অভিযোগে বিদ্রোহী হল থেকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন সদস্য সচিব ও তার অনুসারীরা। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মাঝে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহাবুল আলম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল ও আরেক পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নেয়। এসময় ক্যাম্পাস জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

আহত তানজীম লাবিব বলেন, আমাদের সবাই অগ্নিবীণা হলের ভিতরে চলে গেলেও শাহাবুল আলম হলের গেইট বন্ধ করে দেয়ায় আমি ও ইসরাফিল ভাই ভিতরে যেতে পারি নি। এসময় অপর পক্ষের সবাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা করে ও হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি ছাত্রলীগ বিরোধী মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিকে একটা হট্টগোল শুরু হয়। যেখানে সাবেক ছাত্রলীগ করা লোকজন যারা এখন ছাত্রদলের একটি গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছে তারা ছিলো। আমি সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে এই ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা একজন যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়ে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে হাতাহাতির ঘটনা হয়।

ঘটনার বিষয়ে সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সিনিয়র জুনিয়রদের বাকবিতন্ডা থেকে আমি বিষয়টা মিমাংসার জন্য ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসি। তখন সেখানে শাখা ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতা উপস্থিত হয়ে ঘটনাকে উস্কে দেয় ও মারামারির ঘটনা ঘটায়। চিহ্নিত ছাত্রলীগ করা অনুপ্রবেশকারীরা এই ঝামেলাগুলো করছে। বারবার তারা মারামারির পথে যাচ্ছে। আমি চাই ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা হোক এবং সাবেকরা যেন ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রভাব না ফেলে।

নিজের পক্ষে ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে মামুন সরকার বলেন, যারা পূর্বে চাপে পরে ছাত্রলীগ করেছে কোন পদে ছিলো না, খারাপ কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না ও জুলাইয়ের পক্ষে ছিল তাদের মধ্যে যারা ছাত্রদলকে ধারণ করতে চেয়েছে আমি তাদের জায়গা দিয়েছি। কিন্তু অন্য পক্ষে ছাত্রলীগের সভাপতিকে রান্না করে খাওয়ানো লোকজনও আছে তারা নিজেদের বিষয়ে অভিযোগ তুলছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নিজেদের মাঝে একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে বহিষ্কৃত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে গত (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে (২৯ জুলাই) বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ২ জন আহত হয়।