বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

পবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, নেপথ্যে কর্মকর্তা জুয়েল

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েল। জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগের পরীক্ষা আয়োজনের জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি […]

পবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, নেপথ্যে কর্মকর্তা জুয়েল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫৫

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েল।

জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগের পরীক্ষা আয়োজনের জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে একটি কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটিতে পবিপ্রবির কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে তিন হাজার চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েলের নেতৃত্বে গুটিকয়েক কর্মকর্তা কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে কিছু পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা। এ সময় জুয়েল তার দায়িত্বে থাকা পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে দেন। বাইরে থাকা অপর কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সমাধান করে অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরীক্ষার দিন সাইদুর রহমান জুয়েলের পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব ছিল কেন্দ্র-২ (প্রশাসনিক), যা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের চতুর্থ তলার করিডোরে ৪০০ নম্বর কক্ষ হিসেবে নির্ধারিত ছিল। এ সত্ত্বেও জুয়েল তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে ড. শফিকের নেতৃত্বাধীন একাডেমিক কেন্দ্রে চলে যান। কেন্দ্র-২-এ সাইদুর জুয়েলের স্থলে তার নাম কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পাপড়ি হাজরাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

জানা যায়, সাইদুর রহমান জুয়েলের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীল আরও কয়েকজনকে নিয়ে নিকটস্থ বগা ইউনিয়নের একটি স্কুলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অবস্থান করেন।

দিনটি শুক্রবার হওয়ায় স্কুলটি বন্ধ ছিল। এ সময় সাইদুর রহমান জুয়েলের পাঠানো প্রশ্নপত্রটি সমাধান করে পুনরায় পাঠানো হয়। স্কুলে অবস্থান করার কারণে মাধব হলের দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিলেন। টিএসসি ভবনের কনফারেন্স রুমের পরিদর্শক হাজিরা সিট তথা সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অনুপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির হাতে আসা বেশ কিছু স্ক্রিনশটে এই প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, পরীক্ষার দিন সকাল ১০টা ১ মিনিটে সাইদুর রহমান জুয়েলের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। প্রশ্নপত্রটি ছিল ‘সুরমা’ সেটের, যার সেট কোড ছিল ৩৬৭১। ফিরতি বার্তায় প্রশ্নের উত্তরসম্বলিত একটি ছবিও পাঠানো হয়।

তবে এবারই প্রথম নয়, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতির বড় বড় অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেওয়া অবৈধ নিয়োগ বাস্তবায়নে আওয়ামীপন্থী এই কর্মকর্তার ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধাদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষক ড. সন্তোষের সঙ্গে যোগসাজশে সে সময় বিপুল অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্য করেন সাইদুর জুয়েল। একই সঙ্গে তার আপন ভাইকে সেকশন অফিসার পদে ঐ নিয়োগে পদায়ন করা হয়।

সে সময় এই নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জুয়েলের প্ররোচনায় ড. সন্তোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সাংবাদিক সমিতির সভাপতিকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দেন জুয়েল। পরবর্তীতে নিয়োগটির বৈধতা না থাকায় ও বাণিজ্যের অভিযোগে তা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রাবস্থায় সাইদুর জুয়েল ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি ছিলেন ১৪ নম্বর সদস্য। অভিযোগ আছে, এত দুর্নীতির পরও বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তাকে কোনো ধরনের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অভিযোগ অবান্তর ও অসত্য। আমি কেন প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠাবো? আমি এসব কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”

পরীক্ষার আগ মুহূর্তে কেন্দ্র কেন পরিবর্তন করলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পরীক্ষার কেন্দ্র তো আমি পরিবর্তন করিনি; কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র পরিবর্তন করে আমাকে অন্য হলে পাঠিয়ে দিয়েছে।”

এ সময় প্রতিবেদকের হাতে থাকা প্রমাণাদির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে অনেক রাজনীতি চলে; এগুলো রাজনৈতিক উসকানি হতে পারে।”

অপর অভিযুক্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীলকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমি এগুলোর সঙ্গে জড়িত নই। আমি অসুস্থ ছিলাম, তাই ওই দিন আমি ডিউটিতেই যাইনি। তাহলে আমি এগুলো সমাধান করে পাঠাবো কীভাবে? এসব অভিযোগ সত্য নয়।”

পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উম্মে সালমা লাইজু প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে বলেন, “প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মহোদয় সার্বিক বিষয়টি তদারকি করেছেন। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকেও কেন্দ্রে লোকবল নিয়োজিত ছিল। এরকম একটি ঘটনার পর তৎকালীন জেলা কমিটির উপরও দায় বর্তায়।”

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি কয়েক বছর আগের। এখন পর্যন্ত আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এ বিষয় সম্পর্কে আপনাদের কাছ থেকেই জানতে পারলাম। ইতোমধ্যে উক্ত পরীক্ষার নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে। যদি প্রশ্ন ফাঁসের মতো কিছু সত্যিই ঘটে থাকে, আমরা এর তদন্ত করবো এবং তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ সংক্রান্ত তথ্যাদি আমাদের কাছে উপস্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদি আমলে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচারের স্বার্থে একটি কমিশন গঠন করেছি। কমিশনটি ১১টি উপ-কমিটিতে বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে একটি উপ-কমিটি শুধুমাত্র প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করছে। প্রাথমিকের এই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমি সেই কমিটির সঙ্গে কথা বলবো। এই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টিও কমিশন তদন্ত করবে।”

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।