বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ভাষার জন্য রক্ত, বাঙালির মহত্ত্বকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ভাষা একটি জাতির পরিচয়ের মূল ভিত্তি, আর মাতৃভাষা হলো হৃদয়ের গভীর অনুভূতির প্রকাশ। বাঙালি জাতি তার ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে, আত্মত্যাগ করেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বাংলার মাটি, আর সেই আত্মত্যাগের ফলেই আমরা আজ স্বাধীনভাবে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারি।   জন্মের পর থেকেই আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলি, […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৬:২৫

ভাষা একটি জাতির পরিচয়ের মূল ভিত্তি, আর মাতৃভাষা হলো হৃদয়ের গভীর অনুভূতির প্রকাশ। বাঙালি জাতি তার ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে, আত্মত্যাগ করেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বাংলার মাটি, আর সেই আত্মত্যাগের ফলেই আমরা আজ স্বাধীনভাবে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারি।  

জন্মের পর থেকেই আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলি, ভাব প্রকাশ করি, আবেগ ভাগ করি। আমাদের সুখ, দুঃখ, ভালোবাসা—সবকিছুই মায়ের ভাষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেমন আমরা জন্মভূমিকে ভালোবাসি, তেমনই মাতৃভাষার প্রতিও আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকা উচিত। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের প্রতিচ্ছবি।  

বাঙালির ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা আমাদের ভাষার সংগ্রামকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত করেছে।  

আমাদের উচিত এই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা, শুদ্ধভাবে ব্যবহার করা এবং নতুন প্রজন্মকে এর গুরুত্ব বোঝানো। কারণ ভাষা শুধু কথার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়, আমাদের গৌরব, আমাদের ঐতিহ্য। ভাষা রক্ষার এই শপথ হোক চিরন্তন।ভাষার মাসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা গুলো তুলে ধরেছেন -তানজিল কাজী 

বাংলার মাটি আর বাঙালির হৃদয়ের সুর একাকার। এখানে ভাষা কেবল শব্দের মালা নয়, এ ভাষার জন্য রক্ত ঝরেছে, জীবন দেওয়া হয়েছে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায়। সেই রক্তের অক্ষরে লেখা ইতিহাস বাংলাকে করেছে মহীয়ান, বাঙালিকে করেছে অমর। ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গের নজির বিশ্বে বিরল—এটাই বাঙালির অসামান্যতা। 

বাঙালির মহত্ত্ব তার সংস্কৃতির গভীরতায়, স্বপ্ন দেখার সাহসে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রক্তে লেখা বিদ্রোহে। রবীন্দ্রনাথের কাব্যে, নজরুলের চেতনায়, লালনের সুরে, প্রতিবাদের মিছিলে এই জাতি বারবার প্রমাণ করেছে: তাদের আত্মা অপরাজেয়। বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি শিকড়ের মতো প্রোথিত—বন্যার জলেও যা টিকে থাকে, ঝড়েও মাথা নোয়ায় না। 

ভাষা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের প্রেরণা। বাঙালির মহত্ত্ব কোনো অহংকার নয়, এটি এক গৌরবগাথা—যে গল্প বলতে বলতে বাংলার শিশুরা বড় হয়, যুবকেরা স্বপ্ন বোনে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে যায় আলোর দিকে। এ ভাষা, এ মানুষ—যেন পদ্মার স্রোত: অবিরাম, অদম্য, চিরজীবনের।

মেহেদী হাসান 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

মাতৃদুগ্ধ যেমন শিশুর সর্বোত্তম পুষ্টি তেমনি মাতৃভাষার মাধ্যমে ঘটতে পারে একটি জাতির শ্রেষ্ঠ বিকাশ। মানুষের পরিচয়ের সেরা নির্নায়ক তার মাতৃভাষা। আক্ষরিক অর্থে মাতৃভাষা মানে মায়ের ভাষা বোঝায়। মায়ের ভাষায় কথা বলে তথা আবেগ-অনুভূতি,আশা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে যতটা আত্নতৃপ্তি পাওয়া যায় অন্য কোনো ভাষায় সেটি সম্ভব নয়। পৃথিবীতে প্রায় ৭ হাজারের ও বেশি ভাষা রয়েছে কিন্তু মাতৃভাষার চেয়ে মধুর ভাষা একটিও নেই।বাংলা আমাদের মাতৃভাষা।

পৃথিবীতে বাংলাদেশ ই একমাত্র দেশ যে দেশের মানুষ তাদের মাতৃভাষা রক্ষার্থে প্রান দান করেন শহীদ সালাম,জব্বার,রফিক,বরকতসহ আরো অনেক তাজা প্রান।তাদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। ভাষা শহীদদের স্মরণ করে একুশে ফেব্রুয়ারিকে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয।১৭ ই নভেম্বর ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এর ৩১তম সম্মেলনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বর্তমানে পৃথিবীর মোট ১৮৮ টি দেশে পালিত হয় এই দিনটি। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে আমরা ফুল অর্পণ করে থাকি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। ভাষাশহীদেরা তাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের বিশ্ব দরবারে এক সম্মানের জায়গা নির্ধারিত করে দিয়েছে। বিশ্ব দরবারে সহস্র প্রানে আজও বেজে ওঠে

  আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।

ইশরাত জাহান হাফসা

ইংরেজি বিভাগ,সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর।

“মাতৃভাষা” একটি আবেগ, আকাঙ্খা ও ভালোবাসার নাম। মায়ের ভাষায় কথা বলতে আমরা যতোটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি অন্য কোনোও ভাষায় তা সম্ভব নয়।

শেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ, ইঙ্গ-মোঙ্গল, প্রাচ্য-পাশ্চাত্য হাজারো জাতি, হাজারো ভাষা পৃথীবিতে থাকলেও বাঙালি জাতিই পৃথীবিতে প্রথম যারা মায়ের ভাষা রক্ষার্থে রাজপথে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলো। তাইতো ভাষার প্রতি এই ভালোবাসার উপহারস্বরূপ ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা” হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

আর আমরা ভাষা এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাভরে গলা ছেড়ে গেয়ে যাই, ” আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?” 

হাজারোও ভাষার মধ্যে আমার মায়ের মুখের ভাষা-ই সেরা। তাই তো কবি অতি আবেগে আপ্লুত হয়ে কন্ঠ ছেড়ে গেয়েছেন; আমি বাংলায় হাসি- বাংলায় কাদি, বাংলায় জেগে রই। 

মাতৃভাষার এই অমেয় সুধা যাদের কারণে আমরা পেয়েছি তাদের প্রতি সীমাহীন শ্রদ্ধা, বুকভরা ভালোবাসা। তাদের এই মহত্ত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষার সম্মান রক্ষা করতে আমরা বাঙালি জাতি সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্বদা আপোষহীন। 

মাহমুদুল হাসান সুমন

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ 

ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।