শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) খামার বিভাগের বিল্ডিংয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই পদক্ষেপে ক্যাম্পাসজুড়ে স্বস্তি ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, খামার বিভাগের এই ভবনটি একসময় বিভাগের অধীনে থাকলেও বিগত সময়ে ছাত্রলীগ এটি অবৈধভাবে দখল করে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছিল। তখনকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ কেউ এই দখলে সহযোগিতা করেছিলেন, আবার অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রক্ষিতে নির্দিষ্ট কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে ছাত্রলীগের কার্যালয় ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কবি কাজী নজরুল হলের সামনে এই ভবন থাকায় দেখতেও অসুন্দর লাগে। এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও শেকৃবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আশিক আহমেদ বলেন, ছাত্র সংগঠনের কাজ ছাত্রদের বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে তাদের পাশে দাড়ানো। তাদের দাবি আদায়ে সাহায্য করা। কিন্তু ছাত্রলীগ তা না করে ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে। এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও তারা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। বর্তমানে তারা একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয় শেকৃবিতে থাকতে পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়া স্থাপনাটি ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য নষ্ট করছিল। ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য বর্ধনে যথোপযুক্ত নিয়ম অনুসরণ করেই স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।