সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

কৃষকের টেকসই উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী

রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ খাতের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, আদর্শ সদর আয়োজিত […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২২:৪৭

রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ খাতের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, আদর্শ সদর আয়োজিত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে “কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প” এবং Bangladesh Sustainable Recovery, Emergency Preparedness and Response (B-STRONG) প্রকল্পের আওতায় কৃষক গ্রুপের মাঝে ধান কাটার যন্ত্র (রিপার), ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি (LLP), ক্যানভাস পাইপ ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সম্প্রসারণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে কৃষকের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে হবে। কৃষক সমৃদ্ধ হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ, কৃষক নিবন্ধন ও কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণ, মা বোনদের সামাজিক ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। 

তিনি আরো বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার দেশের কৃষি উন্নয়নে খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার বাস্তবসম্মত খাল পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যাতে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার ধান কাটা, মাড়াই ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছে। ইউনিয়নভিত্তিক কৃষক সমিতি ও সংগঠনের মাধ্যমে কৃষিযন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এর সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কৃষকের সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শসেবা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাত, B-STRONG প্রকল্পের পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মোঃ নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে মন্ত্রী আজ সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ। এসময় মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকুক। প্রতিটি ইঞ্চি জমি ও জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় এনে দেশের খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে প্রতিটি সম্পদকে কাজে লাগানো হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, কৃষিজমি, জলাশয় বা অন্য কোনো উৎপাদনক্ষম সম্পদ হোক- সবকিছুকেই উৎপাদনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের পুষ্টিচাহিদা পূরণ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যাপক পরিসরে মাছের পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। 

এ সময় কলেজের জলাশয়ে মোট ১৩২ কেজি ও আনুমানিক ১,৬০২টি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে কাতল ৪২ কেজি, রুই ৪৫ কেজি এবং মৃগেল ৪৫ কেজি মাছের পোনা ছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: জিয়া হায়দার চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাসার ভূঁঞা, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।