মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মেহেরপুরে দুই আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপি- জামায়াতের

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মেহেরপুরের দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে মূল লড়াই গড়ে উঠছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে দুই দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। মেহেরপুর জেলায় রয়েছে দুটি সংসদীয় আসন। মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) […]

মেহেরপুরে দুই আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপি- জামায়াতের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:০৮

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মেহেরপুরের দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে মূল লড়াই গড়ে উঠছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে দুই দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। মেহেরপুর জেলায় রয়েছে দুটি সংসদীয় আসন। মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) এবং মেহেরপুর-২ (গাংনী)।

মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য। জেলা বিএনপির বিগত কমিটির সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মাসুদ অরুনের বাবা প্রয়াত সংসদ সদস্য আহম্মদ আলী ১৯৭৯ সালে বৃহত্তর কুষ্টিয়া-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি মেহেরপুর-১ আসন থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জামায়াত ইসলাম অবশ্য আগে ভাগেই তাদের মনোনয় চুড়ান্ত করে। জেলা জামায়াতের আমির তাজউদ্দীন খান জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী। কিন্তু বিএনপির একাধিক নেতা এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী কামরুল হাসান, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংঘটনিক সম্পাদক রোমানা আহমেদ। তবে মনোনয় যাচাই বাছাইয়ে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বাদ পড়েছেন তারা।

এর বাইরে এনসিপি থেকে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ঢাকা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা। যাচাই বাছাই তিনিও বাদ পড়েছেন। বাদ পড়েন অরাজনৈতিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব রহমান এবং সিপিবির প্রার্থী আইনজীবী মিজানুর রহমান।

এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেলা সভাপতি আব্দুল হামিদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে। আসনটিতে জাতীয় পার্টির তেমন কোন প্রচার প্রচারণা বা সভা সমাবেশ হতে দেখা যায়নি। 

স্থানীয় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে এই দুই আসনেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা থাকলেও ভোটের মূল সমীকরণ ঘুরছে এই দুই দলের মধ্যেই।

গণসংযোগকালে মাসুদ অরুন বলেন, এই আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণই তাদের রায় দেবে। আমি নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী তাজউদ্দীন খান বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। ন্যায়বিচার, সুশাসন ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতির পক্ষে মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, ভোটাররা আমাদের দিকেই তাকাবে।

স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, সদর ও মুজিবনগর এলাকায় দুই দলেরই শক্ত সংগঠন রয়েছে। ফলে এখানে ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হবে ভোটার উপস্থিতি ও শেষ মুহূর্তের প্রচারণার ওপর।

মেহেরপুর-২ আসনের চিত্র

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নিয়ে গঠিত মেহেরপুর-২ আসনেও নির্বাচনী উত্তাপ কম নয়। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মনোনয়ন পত্র দাখিলের আগে জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদের সঙ্গে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। তাদের কর্মী সমর্থকেরা একে অপরের দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর চালান। আমজাদ হোসেনের মনোনয়ন প্রত্যাহের দাবিতে টানা এক মাস নানান কমর্সুচী পালন করে জাভেদ মাসুদের অনুসারীরা।

কিন্তু সর্বশেষ আমজাদ হোসেনকেই চুড়ান্ত মনোনীত করে বিএনপি। এই কারণে জাভেদ মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন উত্তোলন করেও দাখিল করেননি। 

অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হুদাকে জামায়াত ইসলামের মনোনয়ন দিয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাও তাকে বৈধ ঘোষণা করেছে। এই দুই প্রার্থীর বাইরে জাতীয় পার্টির আব্দুল বাকি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টির প্রভাব এই এলাকায় খুব কম থাকায় তাকে নিয়ে তেমন আলোচনা শোনা যায়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাংনী আসনে বিএনপি ও জামায়াতের ভোটব্যাংক প্রায় কাছাকাছি। ফলে এই আসনে ভোটের ফলাফল নির্ধারণে ভোটার উপস্থিতি ও শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে আওয়ামী লীগের ভোটা ব্যাংক টানার চেষ্টা করছেন এই দুই প্রার্থী ।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও ভোটাধিকার ইস্যু প্রধান আলোচনায় রয়েছে। অনেক ভোটারই বলছেন, তাঁরা দল নয়, যোগ্য প্রার্থীকে মূল্যায়ন করতে চান।

আমজাদ হোসেন বলেন, গাংনীর মানুষ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চায়। আমি দীর্ঘদিন মানুষের পাশে ছিলাম। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেব।

জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হুদা বলেন, এই আসনে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। ভোটাররা যদি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, তাহলে ফল আমাদের পক্ষে আসবে বলে বিশ্বাস করি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেহেরপুরের দুই আসনেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংক কাছাকাছি। ফলে অল্প ব্যবধানেই জয়-পরাজয়ের ফল নির্ধারিত হতে পারে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটার উপস্থিতিই হবে চূড়ান্ত ফ্যাক্টর।

নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মেহেরপুরের রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ে কার ভাগ্যে জয় আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।