শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পায়রা-বিষখালী তীরের চরগুলোতে অতিথি পাখির উপস্থিতি কমছে

বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় শীত মৌসুম এলেই আগের মতো অতিথি পাখির কোলাহল আর চোখে পড়ে না। এক সময় শীতের শুরুতে পায়রা, বিষখালী ও আন্দারমানিক নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলগুলো নানা প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে উঠত। এখন সেখানে সেই চিত্র অনেকটাই ম্লান।

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯:১৭

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা

বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় শীত মৌসুম এলেই আগের মতো অতিথি পাখির কোলাহল আর চোখে পড়ে না। এক সময় শীতের শুরুতে পায়রা, বিষখালী ও আন্দারমানিক নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলগুলো নানা প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে উঠত। এখন সেখানে সেই চিত্র অনেকটাই ম্লান।

স্থানীয় সূত্র ও পাখি পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে এ অঞ্চলে আগত অতিথি পাখির সংখ্যা ছিল শতাধিক প্রজাতির। বর্তমানে তা কমে মাত্র ২০ থেকে ৩০ প্রজাতিতে এসে ঠেকেছে। প্রতিবছরই শীত মৌসুমে কিছু অতিথি পাখি এলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমতলী ও আশপাশের চরাঞ্চলগুলোতে অতিথি পাখির কলতান শোনা দুষ্কর হয়ে পড়বে।

পাখি পর্যবেক্ষকদের মতে, অতিথি পাখি কমে যাওয়ার পেছনে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় কারণ। পাশাপাশি কৃষি ব্যবস্থায় পরিবর্তনও পাখিদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে ফসলে প্রধানত জৈব সার ব্যবহার করা হতো, বর্তমানে সেখানে ব্যাপকভাবে বিষাক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব রাসায়নিক খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে পাখিদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

এ ছাড়া এক শ্রেণির অসাধু শিকারি বিষ দিয়ে পাখি নিধন করে প্রকাশ্যেই বাজারে বিক্রি করছে। এতে করে পাখিরা এ অঞ্চলকে নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে আর বিবেচনা করছে না। ফলে তারা বিকল্প নিরাপদ স্থানের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

উপকূলীয় পায়রা, বিষখালী ও আন্দারমানিক নদীঘেঁষা চরাঞ্চলের গাছের সবুজ বেষ্টনিও দিন দিন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যেই বনের গাছ লুটপাট ও কাটা হচ্ছে। এতে করে পাখিদের আশ্রয় ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে, যা তাদের সংখ্যা হ্রাসের আরেকটি বড় কারণ।

নদীগুলোতে অবাধে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়টিও পাখিদের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে একদিকে পাখিদের খাদ্যোপযোগী মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে জালে জড়িয়ে অনেক পাখিও প্রাণ হারাচ্ছে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা বনবিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন,

“শীত মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় আসা অতিথি পাখির বিচরণক্ষেত্র রক্ষায় বন বিভাগ সব ধরনের সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। অবৈধ গাছ কাটা ও পাখি নিধনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

সচেতন মহলের মতে, অতিথি পাখি রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। আবাসস্থল সংরক্ষণ, রাসায়নিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে উপকূলীয় প্রকৃতি তার চিরচেনা পাখির কলতান হারাবে-এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।