প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে আগামীকাল মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। দুই দিনের এ রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এ সফরের মাধ্যমে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পথ সুগম হতে পারে।
সফরের দ্বিতীয় ধাপে ২৩ জুন মালয়েশিয়া থেকে চীন যাবেন প্রধানমন্ত্রী। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সফরে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সেতু, উড়ালসড়ক ও পাতাল রেল নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন সফরে শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। এছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ, সবুজ উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়া সফরকালে সংস্কৃতি এবং তথ্য ও সম্প্রচার খাতে দুটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মী নিয়োগ, নিরাপদ অভিবাসন এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক খাতের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যেমন বাড়বে, তেমনি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চীনা বিনিয়োগ ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হবে।