শেখ সজীব,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাট, সুন্দরবনসহ উপকূল রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলা। বিদায়ী বছরে (০১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর-২০২৫)বিপুল পরিমান অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা। এছাড়া সুন্দরবন রক্ষায় চোরা শিকারিদের আটক ও উল্লেখযোগ্য পরিমান হরিণের মাংস জব্দ করেছে বিশেষ এই বাহিনীটি।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের তথ্য অনুযায়ী, গেল এক বছরে ৩৮ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ টি হাত বোমা, ৭৪ টি দেশীয় অস্ত্র, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষ উদ্ধার করা হয়। এসব অভিযানে ৪৯ জন বনদস্যুকে আটক সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে উপকূল রক্ষাকারী এই বাহিনীটি। ২০২৫ সালে ৫ হাজার ৬৭৪ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ২৫৬ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ ৫১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সুন্দরবন রক্ষার অংশ হিসেবে ৮২৪ কেজি হরিণের মাংস ও হরিণের বিভিন্ন অঙ্গসহ ৬০০ টি হরিণের ফাঁদ জব্দ করা হয় এবং ২৯ জন হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়। এছাড়া ১হাজার ৪০০ পিসেরও বেশি গেওয়া ও গড়ান কাঠ, ২ টি তক্ষক, ৬২ টি বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ এবং ৩হাজার ৪০০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়। অবৈধ মৎস্য আহরণ বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা সমমূল্যের ১২ কোটি মিটারেরও বেশি অবৈধ জাল এবং ১২০ কোটি টাকা সমমূল্যের রেণুপোনা, ১৪ হাজার কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া গেল এক বছরে দুই সহস্রাধিক দুস্থ, অসহায় ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ এবং পাঁচ শতাধিক শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, জেলে, মাঝি, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে পরিবেশ ও বন রক্ষা, বনজ প্রাণী সংরক্ষণ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম এবং অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ কিশোর-তরুণদের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রতকরণ এবং মাদক বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন, মোংলার জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোস্টগার্ড উপকূল ও সুন্দরবন রক্ষা, উপকূলের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য কাজ করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গেল বছর বিপুল পরিমান মাদক, অস্ত্র ও হরিণের মাংস জব্দ করা হয়েছে। সেই সাথে সচেতনতামূলক কাযক্রম পরিচালনা করা হয়েয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।