আলী আক্কাছ মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় পদ্মার শাখা নদীর ওপর প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু না থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনটি জেলার মানুষ। দিঘীরপাড় বাজার ও দিঘীরপাড় চরকে যুক্ত করতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি বহু বছরের হলেও এখনও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
দিঘীরপাড় বাজারের পূর্বদিকে প্রবাহিত এই শাখা পদ্মা নদী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। নদীর ওপারে দিঘীরপাড় চর; আবার একই নদীপথ ব্যবহার করে শরীয়তপুরের নওপাড়া, চরআত্রা, কাঁচিকাটা, কুড়েরচর ও মনিরাবাদ ঘড়িশাল এবং চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার বাসিন্দারা মুন্সিগঞ্জে আসেন বাজার, চিকিৎসা বা ঢাকামুখী যাত্রায়। সব পথের শেষমেশ ভরসা—একটি ট্রলার।
ট্রলারই যেহেতু একমাত্র বাহন, তাই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর দুই পারে মানুষের ভিড় যেন থামছেই না। ট্রলার এলে ওঠার প্রতিযোগিতা, না এলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা—এটাই তাদের নিয়মিত চিত্র। অনেক সময় রাত হলে ট্রলার বন্ধ হয়ে যায়, জরুরি প্রয়োজনে ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল নিয়ে পারাপার হতে ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি দিতে হয় যাত্রীদের।
দিঘীরপাড় হাট ও বাজারে গেলেই বোঝা যায় পরিস্থিতির চাপ। শাখা পদ্মার দুই পাড় থেকে ভিড় করে মানুষ বাজারে আসছেন—কেউ কৃষিপণ্য বিক্রি করতে, কেউবা সংসারের পণ্য কিনতে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রেই এই নদীপথের ওপর নির্ভরতা এতটাই বেশি যে সেতুর অভাব পুরো অঞ্চলের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
শরীয়তপুরের কাঁচিকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইয়াসিন বেপারী বলেন,
“আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় সমস্যা এই নদী। রাতে ট্রলার পাওয়া যায় না, পেলেও ভাড়া তিন–চারগুণ। ৫০০ মিটারের একটা সেতু হলে মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকায় যেতে আর কোনো সমস্যাই থাকত না।”
স্থানীয়দের দাবি, ৫০০ মিটারের এ সেতুটি নির্মিত হলে শুধু টঙ্গীবাড়ির মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ হবে না; উপকৃত হবেন শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের সীমান্তবর্তী প্রায় বিশাধিক গ্রামের মানুষ। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে দ্রুত, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে যেতে পারবে বিদ্যালয়ে, আর ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হবে আরও অনেকগুণ।
দিঘীরপাড়ের মানুষের একটাই আকাঙ্ক্ষা—শাখা পদ্মার ওপর একটি স্থায়ী সেতু, যা তাদের বহু বছরের দূর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে এবং তিন জেলার সংযোগকে আরও গতিশীল করবে।
টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ্ মোয়াজ্জেম বলেন, “দিঘীরপাড় এলাকায় সেতু নির্মাণের জন্য আমরা গত কয়েক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যে পরিবেশগত মূল্যায়ন, মরফোলজি ও হাইড্রো মরফোলজি কাজ সম্পন্ন করেছে। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”