চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) দুটি পোশাক কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনে ইতোমধ্যেই ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ধোঁয়া। দুপুরের বৃষ্টিতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে ইপিজেডের ৫ নম্বর ভবনে থাকা অ্যাডামস ক্যাপ নামে একটি পোশাক কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা পাশের জিন হং মেডিকেল নামের আরেকটি কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একইসঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠান ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সেখানে বিপুল পরিমাণ সুতা, কাপড় ও দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আগুন নেভানোর কাজ করছে, তবে আগুনের তীব্রতা না কমায় আশপাশের ভবনগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন,
“ভবনের অষ্টম তলার উপরের অংশ প্রথমে ধসে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে দুই পাশ থেকেও ধসে পড়তে থাকে। আমরা সিইপিজেডের ভেতরের পুকুর থেকে পানি টেনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি।”
সিইপিজেড কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশেক মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জানান, অ্যাডামস ক্যাপ কারখানায় প্রায় ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে, ফলে শ্রমিকরা দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন,
“আগুন যেহেতু ভবনের ওপরের তলায় শুরু হয়, তাই শ্রমিকরা নিরাপদে নিচে নেমে আসতে পেরেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আশপাশের ভবনগুলো রক্ষায় কাজ করছেন।”
চট্টগ্রাম মহানগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।