শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ৩ জন থানায় ছিলেন ‘জামাই আদরে’

রাজধানীর উত্তরায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসায় ঢুকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করা সমন্বয়ক পরিচয়ধারী তিনজন থানায়ও ছিলেন ‘জামাই আদরে।’ তাদের গ্রেপ্তারের পর শুরুতে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নেওয়া হয়। হাজতখানায় না নিয়ে বসানো হয় এক পুলিশ কর্মকর্তার কক্ষে। সেখানে বসেই সিগারেট টানতে থাকেন দুজন, মোবাইল ফোনে নানা জায়গায় কথা বলেন। পুলিশ তাদের ডিম, পরোটা, ডালভাজি ও চা […]

সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ৩ জন থানায় ছিলেন ‘জামাই আদরে’

সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ৩ জন থানায় ছিলেন ‘জামাই আদরে’

নিউজ ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৭

রাজধানীর উত্তরায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসায় ঢুকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করা সমন্বয়ক পরিচয়ধারী তিনজন থানায়ও ছিলেন ‘জামাই আদরে।’ তাদের গ্রেপ্তারের পর শুরুতে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নেওয়া হয়। হাজতখানায় না নিয়ে বসানো হয় এক পুলিশ কর্মকর্তার কক্ষে। সেখানে বসেই সিগারেট টানতে থাকেন দুজন, মোবাইল ফোনে নানা জায়গায় কথা বলেন। পুলিশ তাদের ডিম, পরোটা, ডালভাজি ও চা দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে। সম্প্রতি থানার সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

গত বুধবার রাতে এএইচএম নোমান রেজা, তানজিল হোসেন, ফারিয়া আক্তার তমাসহ কয়েকজন সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের বাসায় যান। তারা ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে তাদের সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়ে রেহাই পান ওই ব্যবসায়ী। বাকি টাকার জন্য হুমকি দিলে ঘটনার পরদিন উত্তরা-পশ্চিম থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই তিনজনকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়

পুলিশ। পরে পুলিশ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার তিন জনের মধ্যে নোমান রেজা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিমানবন্দর থানা শাখার সদস্য সচিব, তানজিল যুগ্ম সদস্য সচিব আর ফারিয়া আক্তার তমা গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, যাকে তমা ফারিয়া নামে চেনেন সবাই।

গত বছর বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া উত্তরার একাধিক লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে পুঁজি করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে আসা তমা ফারিয়া ওই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন না। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনে সফলতা এলে তিনি বিজয়ের দিন বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দেন। তার বাবা স্বপন তালুকদার উত্তরার পশ্চিম থানা ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সরকার পতনের পর বাবা আত্মগোপনে চলে গেলেও মেয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সেজে নানা অপকর্ম শুরু করেন। গত আগস্টে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএনপি নেতা (পদ স্থগিত) ফজলুর রহমানের বাসার সামনে মব সৃষ্টি করে আলোচনায় আসেন এই তমা ফারিয়া। তখন তিনি বর্ষিয়ান ওই নেতার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেন ও অশ্লীল প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

ব্যবসায়ীর বাসায় চাঁদাবাজি করে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দর থানার একটি কক্ষে বসে আছেন নোমান রেজা, তমা ফারিয়া ও তানজিল। তাদের মধ্যে নোমান ও তানজিল সিগারেট টানছিলেন এবং মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। তমা চা পান করছিলেন। হাস্যোজ্জ্বল নোমান মোবাইল ফোনে কাউকে থানায় অবস্থানের বিষয়ে জানাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘…ওসি আমাদের বিপদে ফেলার ধান্দায় কি না, এখন সন্দেহ ওদিকেই যাইতেছে। তাকে নাকি কমিশনার প্রেসারাইজ করতেছে।’ পরক্ষণেই বলেন, ‘না, আমাগোরে হাজতে রাখে নাই। ভালো ব্রেকফাস্ট-ট্রেকফাস্ট আইন্যা খাওয়ালো।’ ওই ফাঁকে তমা ফারিয়া বলতে থাকেন, ‘সকালে নাশতা করছি পরোটা, ডিম ডাল আর ভাজি, আর এখন চা।’ এর পরই নোমান বলেন, ‘পশ্চিম থানার ওসি আর এয়ারপোর্টের ওসি ব্যাচমেট। সবাই জানে নোমান…।’ উচ্চস্বরে হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি বলছিলাম, আমারে সেলে রাখেন, তখন বলে আরে নাহ, এ কেমনে হয়!’

ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে থানা হেফাজতে আসামিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার আর থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ‘জামাই আদর’ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তারকে ফোন দেওয়া হলে তিনি সরকারি সফরে বিদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ওসির দায়িত্বে থাকা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। এ নিয়ে সমালোচনার কথাও শুনেছেন। তবে ঘটনাটি ভিন্ন ছিল।

ওই আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযানের বিবরণ দিয়ে পরিদর্শক বলেন, পশ্চিম থানায় মামলা হলেও মূলত বিমানবন্দর থানার পুলিশও গ্রেপ্তার অভিযানে যায়। ওই তিন আসামিকে আটক করে কর্মকর্তাদের কাজের একটি কক্ষে রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাদের হাজতে না ঢুকিয়ে কৌশলে চাঁদাবাজি করে নেওয়া টাকাগুলোর অবস্থান জেনে তা উদ্ধার করা। কৌশলের অংশ হিসেবেই ওই আসামিদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজেও লাগে। ওই রাতেই চাঁদাবাজির সাড়ে ৫ লাখ টাকা থেকে চার লাখ ৩০ হাজার টাকা আসামিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী উদ্ধারও করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে সাধারণত আসামিদের কাঠগড়ায় তোলা হলেও ওইদিন ওই তিন আসামিকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়নি। তাদের কোর্ট হাজতে রেখেই শুনানি হয়।

এদিকে ফারিয়া তমার বিষয়ে তার পরিবারের একজন জানান, তমার বাবা যুবলীগের ওয়ার্ড নেতা, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু মেয়েটা বখে গেছে। এজন্য ওর বাবা তাকে অনেক আগেই বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। সর্বশেষ বিএনপির একজন নেতার বাসার সামনে গিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার পর ভাইরাল হলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাকে এড়িয়ে চলেন।

তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে তমা মূলত আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল। বয়স কম হওয়ায় কেউ কেউ হয়তো তাকে ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করাচ্ছিল।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।