শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ঘাটাইলে বিএনপির এক নেতার সমর্থকদের পেটালো আরেক নেতার সমর্থকেরা

মো:ফারুক আহমেদ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ  টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার সমর্থকদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে আরেক নেতার সমর্থকেরা। এতে গুরুত্বর আহত হয়ে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচজন। ২৩শে জুলাই বুধবার সন্ধায় উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তারকে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ জুলাই ২০২৫, ২০:৩৮

মো:ফারুক আহমেদ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার সমর্থকদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে আরেক নেতার সমর্থকেরা। এতে গুরুত্বর আহত হয়ে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচজন।

২৩শে জুলাই বুধবার সন্ধায় উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম সমর্থক এবং সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি ফেসবুকে স্ট্যাটাস এবং একাধিক মিটিং এর আয়োজন করে আক্রমানাত্তক বক্তব্য প্রদান করলে সেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরই জের ধরে বুধবার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটলো। 

হামলায় আহত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক নেতা মজিবুর রহমান মাসুম, আনোয়ার হোসেন (৪৫), হাফিজ উদ্দিন (৬২), নান্নু মিয়া (৫৫) প্রমুখ। তাঁরা সবাই বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামের কর্মী ও সমর্থক। 

সন্ত্রাসী এ ঘটনায় স্থানীয় মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে জালাল উদ্দিন মেম্বার (৫৫), মোফাজ্জল হোসেন (৩৮), আল মামুন (৩৩), জালাল উদ্দিনের ছেলে বিদ্যুৎ মিয়া (২৮), মোফাক হোসেনের ছেলে মুরাদ হোসেন (২৩), ছামাদের ছেলে জিয়াউর রহমান (৪২) সহ ১৫ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা

আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদের সমর্থক বলে জানা গেছে। 

স্থানীয়রা আরও জানায়, সাগরদীঘি ইউনিয়নের মালিরচালা গ্রামের দুলাল উদ্দিনের ছেলে মজিবুর রহমান মাসুম নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দাবী করে গত ২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নিজস্ব আইডি থেকে প্রদত্ত একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে স্থানীয় রাজনিতিক জালাল মেম্বারের নানামুখী সমালোচনা করেন। 

স্ট্যাটাসটিতে মাসুম লিখেন,“স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালানোর পর তার (জালাল মেম্বার) কিছু সুনামের কথা বলি। প্রথম সুনাম-সাগরদিঘী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক এবং সাবেক মেম্বার খলিল ভাইকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর।

তারপর জোরদিঘির গোলাম মোস্তফাকে সাগরদিঘী চৌরাস্তায় ফেলে মারধর। তারপর হাতিমারার হালিম ভাই এবং তার ছেলের সাথে কি কারনে মাথা ফাটাফাটি হয়েছিল সেই ঘটনা কমবেশি সবাই জানে।“ 

তিনি লিখেন, “এই জালাল মেম্বার কয়েক মাস আগে আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকার একজনকে কু পরামর্শ দিয়ে আমার নামে মামলা করিয়েছে।“ এছাড়াও মাসুম ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে জালাল মেম্বারের নামোল্লেখ করে আরও নানান সমালোচনা করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল মেম্বারের অনুসারিরা একতরফাভাবে হামলা চালিয়ে তাদেরকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা, হাত ও পাঁজরে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। আহত মজিবুর রহমান মাসুমের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন,

সাগরদীঘি এলাকায় বুধবার বিকেলে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে সেখানে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ জালাল মেম্বারের নেতৃত্বে তার অনুসারিরা হামলা করে পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এ বিষয়ে জালাল মেম্বার বলেন, ঘটনার সময় আমি জেলা সদর টাঙ্গাইলে ছিলাম।

সেখান থেকে শুনতে পেরেছি সাগরদীঘিতে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম বলেন, জালাল মেম্বারের ইন্ধনে সাগরদীঘিতে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

এতে মাসুম সহ কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। আমরা এই ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ সমর্থক একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসুম সহ কয়েক বিএনপি সমর্থককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় আমরা উদ্দিগ্ন।

এছাড়া জালাল মেম্বারের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও নানান অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা দলীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সাগরদীঘি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বলেন,

মারামারির ঘটনায় আমাদের বিএনপির কোন লোকজন জড়িত নয়। যারা মারমারি করেছে তাদের বিএনপিতে কোন পদপদবীও নাই। তাঁরা নিজেদেরকে বিএনপির সমর্থক দাবী করে ব্যক্তি পর্যায়ের কোন নেতার সমর্থন ও ইন্ধনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে।

আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছি। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশাররফ হোসেন (ওসি) বলেন,

সাগরদীঘিতে একটি মারামারির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।  

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।