সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ওষুধ ব্যবসায়ী সাধক চন্দ্র রায়ের (২২) হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র ১০ হাজার টাকার জন সাধন চন্দ্র রায়কে হত্যা করে লাশ ও তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পুকুরে ফেলে দেয় তারই বন্ধু মনদীপ রায় (২০)।
গত সোমবার (২৩ জুন) উপজেলার ইশানিয়া ইউপির রনটি গ্রামের পুকুর থেকে সাধক চন্দ্র রায়ের লাশ উদ্ধার করে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ। এই ঘটনায় গত (২৫ জুন) বুধবার নিহতের পরিবার বোচাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় নিহতের বন্ধু মনদীপ রায়কে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মনদীপ পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পুলিশের থেকে জানা যায়, এই ঘটনায় মনদীপ রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার মনদীপ রায় একই গ্রামের তপন কুমার রায়ের ছেলে।
আর নিহত সাধন চন্দ্র রায় রনটি গ্রামের মিনাল চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে ওষুধের দোকান করতেন। নিহত সাধন চন্দ্র রায় ও আটক মনদীপ রায় দুই জনই বন্ধু ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, প্রায় এক মাস আগে মনোদ্বীপ রায় সাধক চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেন। টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় সাধকের মা ও মনোদ্বীপের মায়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে মনোদ্বীপের মা তাকে গালাগালি করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এর জের ধরে গত সোমবার রাতে মনোদ্বীপ রায় সাধককে গ্রামের পাশের এক পুকুরপাড়ে ডেকে নেন। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে সাধকের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সাধকের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পর দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও থেকে মনোদ্বীপকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সাধককে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
সাংবাদিকদের এই বিষয়টি জানান দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিফাত-ই-রাব্বানী, কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ও বোচাগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার উপস্থিত ছিলেন।