রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আছে গবাদি পশু পালনের বিশাল মাঠ, নেই বেচাকেনার হাট

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা একটি হাওয়ার বেষ্টিত এলাকা। এ অঞ্চলে রয়েছে খাল বিল নদী নালা ও ছোট বড় অসংখ্য হাওর। চাষাবাদের জমিসহ বিশাল বিশাল পতিত মাঠ রয়েছে। এসব মাঠে প্রাকৃতিক ঘাস খেয়ে স্থানীয় কৃষকদের গরু, মহিষসহ গৃহপালিত পশু বেড়ে ওঠে। ওই পশু হাওরাঞ্চল সহ দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। তবে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ মে ২০২৫, ২০:৫৩

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা:

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা একটি হাওয়ার বেষ্টিত এলাকা। এ অঞ্চলে রয়েছে খাল বিল নদী নালা ও ছোট বড় অসংখ্য হাওর। চাষাবাদের জমিসহ বিশাল বিশাল পতিত মাঠ রয়েছে। এসব মাঠে প্রাকৃতিক ঘাস খেয়ে স্থানীয় কৃষকদের গরু, মহিষসহ গৃহপালিত পশু বেড়ে ওঠে। ওই পশু হাওরাঞ্চল সহ দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

তবে এসব গবাদি পশু বিক্রির জন্য নেই কোন হাট। ঝুঁকি নিয়ে অন্য উপজেলা ও জেলাতে গবাদি পশু বিক্রির জন্য যেতে হয়। উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এলাকায় পশু বিক্রির হাট স্থাপন। 

খালিয়াজুরী কৃষি ও প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৯ হাজার ৭৬৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় ৬৮ টি গ্রামের ৫৪ ওয়ার্ডের ২০ হাজার ১৯৩ টি পরিবারের মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৯৬ হেক্টর জমির মধ্যে ২০ হাজার ২৯৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়।

আর অবশিষ্ট ৮ হাজার ৩০৩ হেক্টর জমির প্রায় অর্ধেক রবিশস্য চাষাবাদ করা হয়। অনাবাদী প্রায় ৪ হাজার হেক্টর পতিত জমিতে গরু, মহিষ সহ গবাদি পশু লালন পালন করা হয়। 

উপজেলার যে সব হাওরে গবাদি পশু ঘাসের জন্য উপযোগী। মেন্দিপুর ইউনিয়নের নাওটানা ও চাতলপাড়, পূর্ব জগন্নাথপুর, চাকুয়া ইউনিয়নের চাকুয়া, হারাকান্দি, বল্লী ও শালদিগা, খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর, খালিয়াজুরী, গচিকাই, গাজীপুর ইউনিয়নের গাজীপুর, পাচহাট, নগর ইউনিয়নের নগর, বাঘাটিয়া ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর পূর্বা, মুসলিমপুর, কল্যাণপুর ও কুতুবপুর হাওর উল্লেখ যোগ্য।

এসব হাওর গুলোতে পৌষ মাস থেকে বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত রাখালরা দলবদ্ধভাবে গরু, মহিষ ও অন্যান্য গবাদি পশু লালন পালন করে থাকে। সকাল আটটা থেকে রাখালরা গরু নিয়ে মাঠে চলে যায়। সারাদিন ঘাস খাওয়ানোর পর সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে আসে। এভাবেই চলতে থাকে নিয়মিত রাখালদের গবাদি পশু পালন কাজ। 

খালিয়াজুরী উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার কৃষক পরিবারের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারেই গরু, মহিষ সহ অন্যান্য গবাদি পশু লালন পালন করা হয়। উপজেলায় ৫২ হাজার ২৯৫ গরু, সাড়ে ৩ হাজার ছাগল, ৪ হাজার ২২৫ ভেড়া, ৩৮৫ মহিষ, ২ লাখ ৯৫ হাজার হাঁস, ২ লাখ ২০ হাজার ৫৮৪ মুরগি রয়েছে। 

রাখাল সুলাইমান ও মামুন মিয়া বলেন, আমরা গরু পালন করি। কেনাবেচার কোন হাট না থাকায় জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গবাদি পশু কেনাবেচা করতে হয়। এতে করে খুবই কষ্ট হয়। সরকার আমাদের এলাকায় একটা পশুর হাট করে দিলে ভাল হয়।

উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের মোঃ রিপন মিয়া, সবুজ মিয়া, চাকোয়া ইউনিয়নের আবুল কাশেম, খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদ রাসেল মিয়া, গাজীপুর ইউনিয়নের মাসুদ মিয়া, মামুন মিয়া, নগর ইউনিয়নের হারাধন দাস ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন, আমরা প্রত্যেক কৃষকেই জমি চাষাবাদ, মাছ ও গবাদি পশু লালন পালন করে পরিবারের বছরের খরচ মিটানো হয়।

গবাদি পশু কেনাবেচার কোন হাট নেই। উপজেলার বাহিরে মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শ নগর, মদন উপজেলার দেওয়ান বাজার, কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং সহ অন্যান্য বাজার থেকে গরু বেচাকেনা করতে হয়। এটা এলাকার কৃষকদের জন্য খুবই কষ্টকর।

খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রব স্বাধীন, সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কেষ্ট ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মোঃ ইসমাইল হোসেন জানায়, উপজেলা গবাদি পশু বেচাকেনার হাট খুবই জরুরী। বিক্রির হাট থাকলে কৃষকগণ এলাকায় গরু কেনাবেচা করতে পারবে।

এতে সরকার হাট ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব পাবে। এ জন্য তারা ইউএনওর মাধ্যমে গরু বেচাকেনার হাটের অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এলাকা বিবেচনায় গবাদি পশু বিক্রির হাট অনুমোদন দেয়া দরকার। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা গরু বিক্রির হাট জরুরী প্রয়োজন। গরু কেনাবেচার হাট থাকলে কৃষকের কষ্ট লাগব হবে। 

খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভাস্কর তালুকদার জনান, উপজেলায় প্রায় প্রত্যেক কৃষক পরিবারই গবাদি পশু লালন পালন করেন। এগুলো বিক্রির জন্য কোন হাট নেই। উপজেলার সমতল এলাকায় হাট স্থাপন করলে কৃষকদের ভোগান্তি লাগব হতো। 

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উজ্জল হোসেন বলেন, উপজেলার জনগণের পক্ষ থেকে গরু বিক্রির হাটের জন্য সাংবাদিক মোঃ আবুল কালাম আজাদ আবেদন করেছেন। আবেদনটি ডিসি স্যারের কাছে পাঠিয়েছি। 

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, গবাদি পশু বিক্রির জন্য হাট স্থাপনে একটি আবেদন পেয়েছি। তবে হাটের জন্য স্থানীয়দের জমি দান করতে হয়। হাট স্থাপনের জন্য কেহ যদি জায়গা জমি দিতে পারে সেক্ষেত্রে বাজার স্থাপন করা সম্ভব হবে।

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কুরবানীর জন্য অস্থায়ী কিছু হাটের ব্যবস্থা করার জন্য। প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই হাটগুলো ইজারার ব্যবস্থা করা হবে। 

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।