মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সাবেক আইনমন্ত্রীর এপিএস জীবনের হিসাবহীন সম্পদের পাহাড়

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস হয়ে দুহাতে উপার্জন করেছেন অবৈধ অর্থ। আর অবৈধ সম্পদে নিজের জীবনই পালটে ফেলেন রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এলাকায় মাদকের কারবার থেকে শুরু করে ভারতীয় গরু পাচার, টেন্ডারবাজি এবং বদলি বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া দুটি উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আনিসুল হক এই আসনের এমপি ছিলেন। কসবা […]

নিউজ ডেস্ক

২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৬

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস হয়ে দুহাতে উপার্জন করেছেন অবৈধ অর্থ। আর অবৈধ সম্পদে নিজের জীবনই পালটে ফেলেন রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এলাকায় মাদকের কারবার থেকে শুরু করে ভারতীয় গরু পাচার, টেন্ডারবাজি এবং বদলি বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া দুটি উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আনিসুল হক এই আসনের এমপি ছিলেন। কসবা উপজেলায় সবকিছু চলতো তারই ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) জীবনের ইশারায়।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে টানা চার বছর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস ছিলেন মো. রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এই পদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বাগিয়ে নেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় বাগিয়ে নেন কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। এই দুই পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বুলেটের গতিতে করেছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। আনিসুল হকের ছত্রছায়াতেই কসবার একক ‘শাসনকর্তা’ বনে যান তিনি। অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে জীবন গড়ে তোলেন নিজস্ব এক বাহিনী।

নয়নপুর বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারের খাস জায়গায় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জীবন ৪৫টি দোকান নির্মাণ করেছেন। এসব দোকান থেকে তিনি ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিয়েছেন। বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কসবা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি উত্তম কুমার চক্রবর্তীকে দিয়ে তিনি এই টাকা উত্তোলন করেছেন। এলাকায় জীবনের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন উত্তম। জীবনের অপকর্মের সহযোগী হওয়ার কারণে এখন এলাকা থেকে পালিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ও ক্যাম্পাসে খুনের দায়ে অভিযুক্ত স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজমলের মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন মাদক পাচার সিন্ডিকেট। ১০ বছর ধরে এই সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার মাদকের কারবার করেছে। এই চক্র থেকে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা নিতেন এপিএস জীবন। আজমলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট ভারত থেকে গরু পাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিল। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলার উঁচু টিলাসমৃদ্ধ নির্জন জনপদ মাদলা, খাদলা, গৌরাঙ্গলা, শ্যামপুর ও পুটিয়া দিয়ে দিনে-রাতে সমানে গরু পাচার হয়ে আসত বাংলাদেশে। সীমান্তের ওপার থেকে গরু পাচার নির্বিঘ্ন করতে জীবনকে বছরে দুই কোটি টাকা দিতে হতো।

জীবন আইনমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালীন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১০ জন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে বায়েক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রত্যেক মেম্বার প্রার্থীর কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এসব তথ্য দিয়েছেন। এলাকার বিএনপির বহু নেতাকর্মী, এমনকি নিজ দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীও ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি না করে চুপচাপ সময় কাটিয়েছেন। এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন তছনছ করেছেন এই জীবন। নিজ দল আ.লীগের কোনো নেতাকর্মী তার মতের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি, মারধর, মামলাসহ এলাকাছাড়া করা হতো। এক কথায় তার ভয়ে পুরো কসবা থরথর করে কাঁপত।

কসবার বায়েক ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, এপিএস জীবনের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আমার নামে ৪টা মিথ্যা মামলা দেন তিনি। আমার ৩ ভাইকেও মামলা দিয়ে বছরের পর বছর হয়রানি করা হয়।

কসবার নয়নপুরের হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবন তার ক্ষমতার দাপটে আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনসহ ১৩৭ জনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। জীবন তার নিজ গ্রাম কোনাঘাটার জনৈক নিদান মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক নামমাত্র টাকা দিয়ে ৭০ শতক জায়গা লিখে নিয়েছেন।

কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোনাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা জীবনের বাবা আবদুর রশিদ ভূঁইয়া ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তার মা ওয়াহিদা শিরিন ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়া। ২০১৮ সালেও জীবনের তেমন সম্পদ ছিল না। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ত্রিপুরা সীমান্তসংলগ্ন কসবা রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে জীবন ডুপ্লেক্স বাড়ি করেছেন। ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের পতনের পর এটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ বাড়ি থেকে প্রতি রাতে কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য বাংলাদেশ ও ভারতে আনা-নেওয়া এবং মাদক কারবার পরিচালনা করা হতো। সাবরেজিস্টার পদে বদলির জন্য ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা নিতেন জীবন।

নিজ ইউনিয়নের নয়নপুর বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জীবন দুটি মার্কেট গড়েছেন। এরপর পজিশন বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা। নয়নপুর গরুর হাটের ইজারার ৫০ শতাংশ টাকা নিজের পকেটস্থ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে স্ত্রী ও নিজের নামে ১০ শতাংশের দুটি প্লট কিনেছেন। নামমাত্র মূল্যে কসবার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে প্রায় ১০ একর পাহাড় কিনেছেন। শ্বশুরবাড়ি আখাউড়ার ছতুরা শরীফ গ্রামে স্ত্রী নিলুফার নামে কিনেছেন ১০ বিঘা জমি।

জীবন বছর পাঁচেক আগে ঢাকার ১৬৪ নম্বর আরামবাগে ছয়তলা বাড়ি কেনেন। রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে কারখানা করার উদ্দেশে কিনেছেন এক একর জমি। জীবন তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাইয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে জীবন ছাত্রলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি এমরান উদ্দিন জুয়েলকে কসবা পৌরসভার মেয়র বানান। জুয়েলের মাধ্যমেই এলাকায় গড়ে তোলা হয় ‘জীবন বাহিনী’। এ বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি বিরোধী দল এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও। জীবনের নির্দেশে এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ অনেকে দুবারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ শাহ আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর ওই সাবেক সংসদ-সদস্যকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সাবেক সংসদ-সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, গত ১৫ বছর আমাকে এলাকায় ঢুকতে দেননি জীবন। মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। আনিসুল হকের অপকর্মের প্রধান হাতিয়ার ছিলেন জীবন। আনিসুল হক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন জীবনের মাধ্যমে।

জীবনের মাস্তান বাহিনীতে ছাত্রলীগ নেতা এমরান উদ্দিন জুয়েল, মনির হোসেন, রিমন খান, কাজী মানিক, এমদাদুল হক পলাশসহ অনেকে রয়েছেন। তারা এলাকায় মাদক কারবার, টেন্ডারবাজি, সীমান্তে ভারতীয় গরুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ বাহিনী সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শ্যামল কুমার রায়, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সাহা মনি, বিশিষ্ট শিল্পপতি এ কে এম বদিউল আলমসহ অনেককে নিজ জন্মভূমি কসবায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। কেউ টুঁ শব্দ করলেই তার ওপর নেমে আসত নির্যাতনের খক্ষ।

অবশেষে ১৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর কাকরাইল এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জীবনকে পাকড়াও করে পুলিশ। গত দুই বছর আগে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের সময় গুলিতে দলটির কর্মী মকবুল হোসেন নিহতের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।