শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সাবেক আইনমন্ত্রীর এপিএস জীবনের হিসাবহীন সম্পদের পাহাড়

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস হয়ে দুহাতে উপার্জন করেছেন অবৈধ অর্থ। আর অবৈধ সম্পদে নিজের জীবনই পালটে ফেলেন রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এলাকায় মাদকের কারবার থেকে শুরু করে ভারতীয় গরু পাচার, টেন্ডারবাজি এবং বদলি বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া দুটি উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আনিসুল হক এই আসনের এমপি ছিলেন। কসবা […]

নিউজ ডেস্ক

২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৬

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস হয়ে দুহাতে উপার্জন করেছেন অবৈধ অর্থ। আর অবৈধ সম্পদে নিজের জীবনই পালটে ফেলেন রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এলাকায় মাদকের কারবার থেকে শুরু করে ভারতীয় গরু পাচার, টেন্ডারবাজি এবং বদলি বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া দুটি উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আনিসুল হক এই আসনের এমপি ছিলেন। কসবা উপজেলায় সবকিছু চলতো তারই ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) জীবনের ইশারায়।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে টানা চার বছর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস ছিলেন মো. রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এই পদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বাগিয়ে নেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় বাগিয়ে নেন কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। এই দুই পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বুলেটের গতিতে করেছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। আনিসুল হকের ছত্রছায়াতেই কসবার একক ‘শাসনকর্তা’ বনে যান তিনি। অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে জীবন গড়ে তোলেন নিজস্ব এক বাহিনী।

নয়নপুর বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারের খাস জায়গায় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জীবন ৪৫টি দোকান নির্মাণ করেছেন। এসব দোকান থেকে তিনি ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিয়েছেন। বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কসবা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি উত্তম কুমার চক্রবর্তীকে দিয়ে তিনি এই টাকা উত্তোলন করেছেন। এলাকায় জীবনের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন উত্তম। জীবনের অপকর্মের সহযোগী হওয়ার কারণে এখন এলাকা থেকে পালিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ও ক্যাম্পাসে খুনের দায়ে অভিযুক্ত স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজমলের মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন মাদক পাচার সিন্ডিকেট। ১০ বছর ধরে এই সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার মাদকের কারবার করেছে। এই চক্র থেকে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা নিতেন এপিএস জীবন। আজমলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট ভারত থেকে গরু পাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিল। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলার উঁচু টিলাসমৃদ্ধ নির্জন জনপদ মাদলা, খাদলা, গৌরাঙ্গলা, শ্যামপুর ও পুটিয়া দিয়ে দিনে-রাতে সমানে গরু পাচার হয়ে আসত বাংলাদেশে। সীমান্তের ওপার থেকে গরু পাচার নির্বিঘ্ন করতে জীবনকে বছরে দুই কোটি টাকা দিতে হতো।

জীবন আইনমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালীন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১০ জন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে বায়েক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রত্যেক মেম্বার প্রার্থীর কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এসব তথ্য দিয়েছেন। এলাকার বিএনপির বহু নেতাকর্মী, এমনকি নিজ দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীও ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি না করে চুপচাপ সময় কাটিয়েছেন। এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন তছনছ করেছেন এই জীবন। নিজ দল আ.লীগের কোনো নেতাকর্মী তার মতের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি, মারধর, মামলাসহ এলাকাছাড়া করা হতো। এক কথায় তার ভয়ে পুরো কসবা থরথর করে কাঁপত।

কসবার বায়েক ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, এপিএস জীবনের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আমার নামে ৪টা মিথ্যা মামলা দেন তিনি। আমার ৩ ভাইকেও মামলা দিয়ে বছরের পর বছর হয়রানি করা হয়।

কসবার নয়নপুরের হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবন তার ক্ষমতার দাপটে আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনসহ ১৩৭ জনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। জীবন তার নিজ গ্রাম কোনাঘাটার জনৈক নিদান মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক নামমাত্র টাকা দিয়ে ৭০ শতক জায়গা লিখে নিয়েছেন।

কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোনাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা জীবনের বাবা আবদুর রশিদ ভূঁইয়া ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তার মা ওয়াহিদা শিরিন ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়া। ২০১৮ সালেও জীবনের তেমন সম্পদ ছিল না। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ত্রিপুরা সীমান্তসংলগ্ন কসবা রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে জীবন ডুপ্লেক্স বাড়ি করেছেন। ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের পতনের পর এটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ বাড়ি থেকে প্রতি রাতে কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য বাংলাদেশ ও ভারতে আনা-নেওয়া এবং মাদক কারবার পরিচালনা করা হতো। সাবরেজিস্টার পদে বদলির জন্য ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা নিতেন জীবন।

নিজ ইউনিয়নের নয়নপুর বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জীবন দুটি মার্কেট গড়েছেন। এরপর পজিশন বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা। নয়নপুর গরুর হাটের ইজারার ৫০ শতাংশ টাকা নিজের পকেটস্থ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে স্ত্রী ও নিজের নামে ১০ শতাংশের দুটি প্লট কিনেছেন। নামমাত্র মূল্যে কসবার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে প্রায় ১০ একর পাহাড় কিনেছেন। শ্বশুরবাড়ি আখাউড়ার ছতুরা শরীফ গ্রামে স্ত্রী নিলুফার নামে কিনেছেন ১০ বিঘা জমি।

জীবন বছর পাঁচেক আগে ঢাকার ১৬৪ নম্বর আরামবাগে ছয়তলা বাড়ি কেনেন। রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে কারখানা করার উদ্দেশে কিনেছেন এক একর জমি। জীবন তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাইয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে জীবন ছাত্রলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি এমরান উদ্দিন জুয়েলকে কসবা পৌরসভার মেয়র বানান। জুয়েলের মাধ্যমেই এলাকায় গড়ে তোলা হয় ‘জীবন বাহিনী’। এ বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি বিরোধী দল এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও। জীবনের নির্দেশে এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ অনেকে দুবারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ শাহ আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর ওই সাবেক সংসদ-সদস্যকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সাবেক সংসদ-সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, গত ১৫ বছর আমাকে এলাকায় ঢুকতে দেননি জীবন। মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। আনিসুল হকের অপকর্মের প্রধান হাতিয়ার ছিলেন জীবন। আনিসুল হক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন জীবনের মাধ্যমে।

জীবনের মাস্তান বাহিনীতে ছাত্রলীগ নেতা এমরান উদ্দিন জুয়েল, মনির হোসেন, রিমন খান, কাজী মানিক, এমদাদুল হক পলাশসহ অনেকে রয়েছেন। তারা এলাকায় মাদক কারবার, টেন্ডারবাজি, সীমান্তে ভারতীয় গরুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ বাহিনী সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শ্যামল কুমার রায়, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সাহা মনি, বিশিষ্ট শিল্পপতি এ কে এম বদিউল আলমসহ অনেককে নিজ জন্মভূমি কসবায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। কেউ টুঁ শব্দ করলেই তার ওপর নেমে আসত নির্যাতনের খক্ষ।

অবশেষে ১৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর কাকরাইল এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জীবনকে পাকড়াও করে পুলিশ। গত দুই বছর আগে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের সময় গুলিতে দলটির কর্মী মকবুল হোসেন নিহতের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার […]

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ মার্চ ২০২৬, ২৩:০২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও একজন পুলিশ অফিসারসহ ৩ জন কনস্টেবল স্পিডবোটে করে মেঘনা নদীতে রওয়ানা দেন।

এ সময় যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্ণফুলী-১২ এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ওই স্পিডবোটে থাকা সবাই তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যান কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করতে গত দুইদিন ধরে কাজ করেছেন নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে খবর পাওয়া যায় দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়েছিল।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দৌলতখান থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন। দৌলতখান থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যে আমরা নিশ্চিত হই ওই মরদেহটি নিখোঁজ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।