শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
সরকারি সহায়তার ভাগবাটোয়ারা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংগঠনিক ‘একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ’ হাসিলকে কেন্দ্র করে রীতিনীতি ভেঙে রাজপথে নেমেছেন দুই নারী নেত্রী। বগুড়ার শেরপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে ধস্তাধস্তি, মারধর, শ্লীলতাহানি ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরের এ ঘটনার জের ধরে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে পুরো এলাকা জুড়ে। ইতোমধ্যে উভয় পক্ষই একে অপরকে অভিযুক্ত করে শেরপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলা আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দীপা রানী বর্মণ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ বরাদ্দের চাহিদাপত্র পৌঁছে দিতে উপজেলা পরিষদে যান। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় প্রতিপক্ষ ‘আদিবাসী পরিষদ’ এর নেত্রী লক্ষ্মী রানী দাস ও তাঁর অনুসারীরা দীপা রানীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
দীপা রানী বর্মণ বলেন, “উপজেলা পরিষদের মতো স্পর্শকাতর স্থানে আমাকে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। সঙ্গে থাকা জরুরি দলিলাদিসহ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।”
তবে ছিনতাইয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন লক্ষ্মী রানী দাস। তাঁর ভাষ্য, “দীপা রানী ও তাঁর স্বামী উপজেলা গেটেই আমাকে গালিগালাজ শুরু করেন এবং প্রথমে আমার গায়ে হাত তোলেন। আমি আত্মরক্ষার্থে ও ক্ষুব্ধ হয়ে জুতা খুলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি মাত্র। ব্যাগ বা টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
আদিবাসী ফোরামের স্থানীয় নেতা বাসুদেব রায় বাগদী এ ঘটনাকে দীর্ঘদিনের কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাঝে বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী প্রকল্পের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে তা নিয়েই মূল দ্বন্দ্ব। তাঁরা ভুক্তভোগী হিসেবে থানায় আগে অভিযোগ দিলে প্রতিপক্ষ বাঁচতে পাল্টা মামলা ফাঁদে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাবলু রবিদাস জানান, তিনি কেবল মারামারি থামাতে গিয়েছিলেন এবং টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত নন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, “আদিবাসী সম্প্রদায়ের উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। মূলত সাংগঠনিক নেতৃত্বের আধিপত্য বিস্তার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই এ ঘটনার সৃষ্টি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”