বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান। বার্তায় তিনি আজকের দিনটিকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার বলে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এটি ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মরহুম খালেদা জিয়া তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এ পর্যন্ত যারা প্রাণোৎসর্গ করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি।
বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সফলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যতবারই জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর সম্প্রতি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে। জনগণের কাছে একটি শতভাগ জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার মাধ্যমেই বিএনপি এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বলে তিনি জানান।
বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল উৎস। একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের অপর নামই বিএনপি। জনগণের আস্থাকে সমুন্নত রেখে দলের প্রতিটি নেতাকর্মী ও সমর্থক আগামী দিনেও দেশমাতৃকার সেবায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।