শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পবিত্র রমজান মাসের পরই উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার সচিবালয়ে চীন সফর-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের আবহাওয়া ও বৈশ্বিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয় করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমাতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সময়সূচিও একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসকে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রমজান মাসের কারণে এবার ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রোজার আগে পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের অনুরোধে পরীক্ষা এগিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে এক মাসের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হতো।
কারণ আগামী বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হয়ে ১০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তা শেষ করা সম্ভব ছিল।
তবে পরীক্ষা আরও এগিয়ে আনলে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ হলেও পুনরাবৃত্তি বা রিভিশনের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এতে তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে রোজার পর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না। তাদের কোর্স পুনরালোচনা ও পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিতে হবে।
এ কারণে রোজার আগেই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোজার পরেই এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।