মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
স্থাপনের প্রায় পাঁচ বছর পর অবশেষে চালু হয়েছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের চর বেহেরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক। দীর্ঘদিন পর ক্লিনিকটির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় চর বেহেরপাড়া ও আশপাশের এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জন্য হাতের নাগালে এসেছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।
২০২১ সালে ক্লিনিকটি স্থাপন করা হলেও এতদিন সেখানে উদ্বোধন বা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হতো এলাকার সাধারণ মানুষকে।
এখন থেকে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্লিনিকটিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চর বেহেরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল মালেক। পরিদর্শনের সময় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ক্লিনিকটির কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর উদ্যোগের পর সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ক্লিনিকটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
আজ ক্লিনিকটি চালুর সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মেরিনা জাহান মুন্নী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাহিনুর বেগম, স্বাস্থ্য সহকারী রীনা আক্তার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিক হালদার (খোকন), কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) কৌশিক সূত্রধর ও লুৎফর রহমান শেখ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাঁচ বছর আগে ক্লিনিকটি স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসাসেবা চালু না থাকায় এর সুফল থেকে তারা বঞ্চিত ছিলেন। এখন ক্লিনিকটি চালু হওয়ায় ছোটখাটো অসুস্থতার জন্য দূরে যেতে হবে না। স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ বেশি উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্ধারিত দুই দিন ক্লিনিকটি নিয়মিত খোলা থাকবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা যথাসময়ে উপস্থিত থেকে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লিনিকটির সেবার পরিধি আরও বাড়ানো দরকার।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর চালু হওয়া চর বেহেরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি এখন স্থানীয় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।