পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাপের কামড়ে জাকির মৃধা (৪৫) নামে এক বিএনপির নেতার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যান্টিভেনাম ও প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে রেফার করেন। পরে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত জাকির মৃধা গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃধা বাড়ির মো. ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় জাকির মৃধা নিজ ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। এ সময় একটি সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন ও প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল অদুদ মৃধা বলেন, “একটি অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন দিলে রোগীটা মারা যেত না। কর্তব্যরত চিকিৎসক কেন ইনজেকশন ও প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে পটুয়াখালী রেফার করলেন, তা আমার জানা নেই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
স্থানীয়দেরও অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনাম থাকার পরও কেন তা দেওয়া হয়নি, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাদের দাবি, সময়মতো অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হলে হয়তো জাকির মৃধাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল নাঈম তানহা জানান, রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আসে। রোগীর ব্লাড প্রেসার অনেক বেশি থাকায় তাকে কোনো স্যালাইন দেওয়া হয়নি।
এছাড়া হার্ট রেটও অনেক বেশি ছিল। এ কারণে কার্ডিয়াক ইস্যুর কথা বিবেচনা করে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে আমি অ্যান্টিভেনম দিইনি।
অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর যে ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে, এই রোগী মোকাবিলা করার মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সুবিধা আমাদের উপজেলায় নেই। বিশেষ করে আইসিইউ সাপোর্টের ব্যবস্থা নেই। তাই রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তাদের সম্মতি নিয়ে রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবা উদ্দিন জানান, “আমি কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এ কারণে অ্যান্টিভেনম দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়েছে।”
চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না এবং অ্যান্টিভেনাম দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না—এ বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।