নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলা যুবদলের সদস্য জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে তিন নারীকে মারধর করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সোমবার বিকেলে উপজেলার গারিষাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বামনকোলা গ্রামের বুলবুলি, তাঁর মেয়ে তিশা ও মা জুলেখা বেগমের অভিযোগ, ‘বান’ প্রয়োগের সন্দেহে তাঁদের বাড়ি থেকে ডেকে জিয়াউল হকের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানো হয়। এ ঘটনায় তাঁরা সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জিয়াউল হক বলেন, তাঁর ভাতিজি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। চিকিৎসায় সুস্থ না হওয়ায় কবিরাজের শরণাপন্ন হলে তাঁর ওপর পাঁচটি ‘বান’ প্রয়োগের কথা জানতে পারেন তাঁরা। এরপর সন্দেহের ভিত্তিতে ওই তিন নারীকে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়।
কবিরাজের সহায়তায় কথিত ‘হাত চালনা’র মাধ্যমে তাঁদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। পরে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁদের স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। তবে স্ট্যাম্পে কী লেখা ছিল, তা জানা যায়নি।
জিয়াউল হকের বড় ভাই বলেন, তাঁর মেয়ের ওপর পাঁচটি ‘মরণবান’ প্রয়োগের কথা কবিরাজের মাধ্যমে জানতে পারেন তাঁরা। সোমবার বাড়িতে কবিরাজ ডেকে কথিত ওই ‘বান’ খোলার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে তিন নারীর বিরুদ্ধে ‘বান’ বা ‘কালো জাদু’ প্রয়োগের অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এটি থানা সংশ্লিষ্ট বিষয়। ওসি মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেখামনি পারভিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ভাইভা বোর্ডে ব্যাস্ত থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, সকালে পুলিশ পাঠায়েছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।