ইরফান উল্লাহ, ইবি প্রতিনিধি:
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিএনপির সাথে অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া ও নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে সরকার গঠন-পরবর্তী সময়েও শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে পদে বহাল রেখেছে এবং তাকে একটি ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়।
জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির জায়গা থেকে তিনি এইটাকে নিবৃত্ত করতে পারতেন, কিন্তু নিবৃত্ত করার উদ্যোগ নেন নাই; বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার অতীতের যে অপকর্ম এবং পরবর্তীতে এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র তিনি করেছেন। আমরা জেনেছি লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ করছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের সামনে চব্বিশের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশক্তির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক ফটো এক্সিবিশনে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, শাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদের একজন আইকন না, তিনি একজন লুটেরা। তিনি ব্যাংক লুট করেছেন, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকে তিনি দখল করে এস আলামের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন। বিদেশে বাড়িঘর করেছেন, বিদেশে একটা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিয়েছেন।
এ ধরনের একজন ব্যক্তি, তিনি তো রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকার মতো যোগ্যতা তো তার থাকে না। এমনকি ৫ আগস্টের পরে শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি দেন নাই, সেটা নিয়ে তিনি দুই ধরনের কথা বলেছেন মিথ্যাচার করেছেন স্পষ্টভাবে। একবার বলেছেন যে তার কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়েছে, আরেকবার তিনি বলেছেন যে তার কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়া হয় নাই।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রকাঠামোতে সংস্কার প্রয়োজন। দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং তারা বিপুলসংখ্যকভাবে গণভোটকে জয়যুক্ত করেছেন। জনগণের পক্ষ থেকে একটা সিদ্ধান্ত আসার পরে সেটা বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিএনপি সরকার গঠন করার প্রথম দিনই তারা গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী যে সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করবার কথা ছিল, সেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ তারা গ্রহণ করে না। এবং তারপর থেকেই তারা সংসদে নানাভাবে এবং সংসদের বাইরে গণভোটের বিপক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছেন এবং এই গণভোটের রায় সেটা তারা আর মানতে প্রস্তুত না।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা কথা বলতে পারছেন এবং নিজের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকতে পারছেন—এটা আমাদের জন্য দেখতে পারাটা আনন্দের। কিন্তু কিছু শঙ্কার বিষয় এখনো রয়ে গেছে। কারণ, এখনো ক্ষমতাবান কিছু শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপরীতে গিয়ে নানাভাবে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। এই জায়গা থেকে আমরা উত্তরণ চাই।
ক্যাম্পাসগুলো ছাত্রলীগের মতো করে আবার কেউ দখল করবে এমনটা আর বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না। এইজন্যই আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। জাতীয় ছাত্রশক্তি কখনো হল দখল করবে না। এবং কেউ যদি হল দখল করতে আসে তাহলে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ আছে সবার আগে প্রতিবাদ করবে।
এসময় সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে ও সদস্য-সচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। এছাড়াও সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।