পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবং বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল, মাটি কাটা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন নুরুজ্জামান কাফির বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং তার বড় ভাই মামুন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা একটি এক্সকাভেটর (ভেকু), ভ্যান ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস খতিয়ান নং-১২-এর ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন।
পরে তারা ওই জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি থেকে আনুমানিক ১ লাখ টাকার মাটি কেটে নিয়ে যান এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বাদী আব্দুর রহিম জানান, রজপাড়া মৌজার একাধিক বিএস দাগে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমির মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি সরকারি খাসজমিসহ নির্ধারিত সীমানার জমি ভোগদখল করে আসছে।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তাতে সম্মত হননি। পরে কলাপাড়া থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং বিদ্যালয়ের জমি রক্ষায় ন্যায়বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, নুরুজ্জামান কাফি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত ওয়ারিশরা সুপ্রিম কোর্টের রায় পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে তিনি বায়নামূলে জমি ক্রয় করেছেন। জমির মালিকরা তাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কখনও সামনাসামনি দেখা হয়নি। তার ভাষ্য, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”