পটুয়াখালীর গলাচিপায় উলানিয়া হাট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা দীপা রানী দাসের (৫১) অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মকবুল খান, প্রতিষ্ঠান প্রধান মাহফুজুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মো. এমদাদ হোসেন, গৌরাঙ্গ হালদার,
গুয়াবাড়িয়া এবি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবর হোসেন, নিহত শিক্ষিকার বোন রাস মনি দাস, ভাগনি জামাই প্রণব মজুমদারসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
দীপা রানী দাস উলানিয়া হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের কাব্যতীর্থ বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিজল বাড়ি গ্রামের যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে দীপা রানী দাসের সঙ্গে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামের শুভ্র সূচি দাসের বিয়ে হয়। গত ৯ জুলাই রাতে স্বামীর বাড়ি থেকে পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। যে মৃত্যুকে রহস্যজনক বলছেন সহকর্মী ও স্বজনরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উলানিয়া হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. এমদাদ হোসেন। তিনি বলেন, “দীপা ম্যাডামের মতো একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক আমাদের মাঝ থেকে এভাবে চলে যেতে পারেন না।
আমি বিশ্বাস করি, তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন না।” তিনি অভিযোগ করেন, “প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই কয়েকবার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রতিষ্ঠান থেকে দুই-তিনবার তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্যাতন বন্ধ হয়নি।”
এমদাদ হোসেন আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও দীপা রানী দাসকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তখন পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছিল। তিনি লাশ উদ্ধারের দিনের পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীপা রানী দাসের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।