পটুয়াখালী শহরের ঝাউতলা এলাকায় ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা বড়পর্দায় উপভোগের জন্য স্থাপন করা দুটি প্রজেক্টর অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সম্ভাব্য অবনতি, গভীর রাতে অতিরিক্ত জনসমাগম এবং জনদুর্ভোগের আশঙ্কার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১১ জুন) পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রজেক্টর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ফুটবলপ্রেমী। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হাওলাদার বলেন, “চার বছর পরপর বিশ্বকাপ আসে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। প্রশাসন চাইলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারতো। কিন্তু পুরো আয়োজন বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা কষ্ট পেয়েছি।”
জেলা প্রশাসনের দাবি, স্থাপিত প্রজেক্টরগুলোর মধ্যে একটি সরাসরি মূল সড়কের ওপর স্থাপন করা হয়েছিল। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া রাতের বেলায় অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও দেখা দেয়।
এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান প্রশাসনের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মূলত তরুণদের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসন ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে এমন নির্দেশ দিয়েছে, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।” তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দর্শকদের জন্য বড়পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, জনসাধারণের চলাচলের পথের ওপর এ ধরনের আয়োজন না করে শহীদ মিনার মাঠ বা অন্য কোনো উন্মুক্ত স্থানে প্রজেক্টর স্থাপন করা হলে জনভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হতো এবং দর্শনার্থীরাও নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগ করতে পারতেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর ঝাউতলা এলাকায় বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।