নারী প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষিকাদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে অব্যাহতি পাওয়া নেতা আলী আজম সাব্বির খানকে এবার বগুড়ার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
আলী আজম সাব্বির খান বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দহিলা গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
টিটিসি সূত্রে জানা যায়, আলী আজম সাব্বির খান বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রাইভিং ও আরএসি (রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং) ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নারী প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষিকাদের উত্ত্যক্ত করা, অশালীন আচরণ এবং আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১ জুন) প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম ইমদাদুল হকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কার আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, নারী প্রশিক্ষণার্থীদের হয়রানি এবং অশালীন ও অনভিপ্রেত আচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ মে বগুড়া টিটিসিতে এক নারী প্রশিক্ষণার্থী আলী আজম সাব্বিরকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে জুতাপেটা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করেন, সাব্বির তাদের মোবাইল ফোনে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতেন এবং অশালীন প্রস্তাব দিতেন। এছাড়া প্রকাশ্যেও তিনি একাধিক নারী প্রশিক্ষণার্থীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ প্রশিক্ষণার্থীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হন।
এ ঘটনায় এনসিপির বগুড়া জেলা শাখা আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়। তবে দলীয় অব্যাহতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় দপ্তর বা বগুড়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম ইমদাদুল হক বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এ বিষয়ে আলী আজম সাব্বির খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।