শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

গ্রামীণ জনপদে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি

আবু তাহের, জাককানইবি বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ এবং উদ্বেগ বা বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যার উপসর্গে ভুগছেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস, ধূমপান, দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং তামাক ব্যবহার এই যৌথ স্বাস্থ্যসমস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। আন্তর্জাতিক জার্নাল Health Science Reports এ […]

গ্রামীণ জনপদে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৩

আবু তাহের, জাককানইবি

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ এবং উদ্বেগ বা বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যার উপসর্গে ভুগছেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস, ধূমপান, দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং তামাক ব্যবহার এই যৌথ স্বাস্থ্যসমস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ।

আন্তর্জাতিক জার্নাল Health Science Reports এ প্রকাশিত গবেষণায় মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামীণ বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক সমস্যার যৌথ উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রধান ঝুঁকির কারণগুলো শনাক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ড. মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরীর নেতৃত্বে গবেষণাটিতে আরও কাজ করেছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্যান ডিয়েগো, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকবৃন্দ।

গবেষণার জন্য ২০২১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বহুস্তরবিশিষ্ট র‌্যান্ডম নমুনা পদ্ধতিতে ঝিনাইদহ জেলার একটি গ্রামীণ এলাকার ১ হাজার ৬০৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ মূল্যায়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত GAD-7 ও PHQ-9 স্কেল ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি তিন দফা রক্তচাপ মাপার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ একই সঙ্গে মানসিক সমস্যার উপসর্গ ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।

এর মধ্যে ৫ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও উচ্চ রক্তচাপ তিনটিই একসঙ্গে ছিল। আবার ২ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা ও উচ্চ রক্তচাপ এবং ১ দশমিক ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে উদ্বেগ ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে পাওয়া যায়।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এই যৌথ সমস্যার হার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। নারীদের মধ্যে হার ১১ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের মধ্যে তা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন ব্যক্তি, গৃহিণী, স্থূলকায় মানুষ এবং কোমর-নিতম্ব অনুপাত বেশি এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও এই সমস্যার হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। একইভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ, হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে তাদের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে এই যৌথ সমস্যা শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকেরা ঝুঁকির কারণ বিশ্লেষণে গ্রেডিয়েন্ট বুস্টিং, কে-নিয়ারেস্ট নেবার, লজিস্টিক রিগ্রেশন, র‌্যান্ডম ফরেস্ট, সাপোর্ট ভেক্টর মেশিন (SVM) এবং এক্সট্রিম গ্রেডিয়েন্ট বুস্টিং—মোট ছয়টি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন।

এর মধ্যে সাপোর্ট ভেক্টর মেশিন (SVM) সবচেয়ে কার্যকর ফল দেয়। পরে SHAP বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ঝুঁকির কারণের গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়। এতে হৃদ্‌রোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসকারী হিসেবে উঠে আসে।

এরপর রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস, ধূমপানের ইতিহাস, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, তামাক ব্যবহার, শিক্ষার স্তর, কোমর-নিতম্ব অনুপাত, কর্মসংস্থানের অবস্থা, শরীরের ভরসূচক (BMI) এবং বয়স।

গবেষণায় বলা হয়েছে, হৃদ্‌রোগ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা শরীরে প্রদাহ এবং মানসিক চাপ বাড়ায়। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস একজন ব্যক্তিকে জিনগতভাবে বেশি ঝুঁকিতে ফেলে। ধূমপান ও তামাক ব্যবহার রক্তনালির ক্ষতি করে এবং স্নায়ুতন্ত্রে এমন পরিবর্তন ঘটায়, যা একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষকদের মতে, গ্রামীণ বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যকে আলাদা সমস্যা হিসেবে না দেখে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগী, উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং ধূমপায়ী বা তামাক ব্যবহারকারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ধূমপান ত্যাগ কর্মসূচি এবং পরিবারভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা উচিত।

একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করা, গণস্ক্রিনিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। এটি দেশের একটি মাত্র গ্রামীণ এলাকায় পরিচালিত হওয়ায় পুরো বাংলাদেশের চিত্র পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে। পাশাপাশি এটি ক্রস-সেকশনাল গবেষণা হওয়ায় কোনো কারণ-সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

ব্যবহৃত মেশিন লার্নিং মডেল সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ শনাক্ত করতে সহায়ক হলেও এর পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা মাঝারি পর্যায়ের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই গবেষণার ফলাফলকে ভবিষ্যৎ গবেষণার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।