রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

অসহায় মনোয়ারা বেগমকে ঘর উপহার দিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : জীবনের অধিকাংশ সময়ই অভাব-অনটন, স্বামী ও সন্তান হারানো শোক বুকে নিয়েই কাটিয়েছেন মনোয়ারা বেগম। একমাত্র ছেলের মৃত্যু, অসুস্থ স্বামীকে সুস্থ করার লড়াই, দারিদ্র্যতা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব মিলিয়ে যেন জীবনের প্রতিটি ধাপে তাকে লড়াইয়ের মধ্যেই থাকতে হয়েছে। তবুও দেখা দেয় নি সুখ নামের মরীচিকা।  সেই মনোয়ারা বেগম নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন গ্রামের মৃত আব্দুর […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ২১:১৫

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

জীবনের অধিকাংশ সময়ই অভাব-অনটন, স্বামী ও সন্তান হারানো শোক বুকে নিয়েই কাটিয়েছেন মনোয়ারা বেগম। একমাত্র ছেলের মৃত্যু, অসুস্থ স্বামীকে সুস্থ করার লড়াই, দারিদ্র্যতা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব মিলিয়ে যেন জীবনের প্রতিটি ধাপে তাকে লড়াইয়ের মধ্যেই থাকতে হয়েছে। তবুও দেখা দেয় নি সুখ নামের মরীচিকা। 

সেই মনোয়ারা বেগম নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। 

চলতি বছর মনোয়ারা বেগমের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও যখন কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়ে, তখন মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ মঙ্গলবার সকালে তার উপহারে নির্মিত নতুন টিনের ঘরে উঠেছেন আশ্রয়হীন এই নারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ারা বেগমের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তাঁর চিকিৎসা করতে নিজেদের সামান্য জমিজমাও বিক্রি করে দেন তিনি। কিন্তু সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি।

এর কিছুদিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার একমাত্র ছেলে আলিফ মিয়া। স্বামী-সন্তান হারিয়ে তখন পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েন মনোয়ারা। 

অভাবের তাড়নায় অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন মনোয়ারা বেগম। দারিদ্রতার মধ্যেই প্রতিবেশীদের সহায়তায় তিন মেয়েকে বিয়ে দেন। তবে মেয়েদের সংসারও স্বচ্ছল নয়।

ফলে স্বামীর রেখে যাওয়া ছোট্ট একটি টিনের ঘরই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে সেই ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে শুরু করেন তিনি।

এরমধ্যে স্থানীয় একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর মনোয়ারা বেগমের ঘরটি ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তলে ধরেন। এটি দেখে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত তহবিলের টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দেন। 

কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুর রশিদ বলেন, “মনোয়ারা বেগমের ঘরটি ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। এ নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহযোগিতার আবেদন জানাই।

ভিডিওটি নজরে আসে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। পরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃদ্ধাকে ঘর করে দেন। দীর্ঘদিন পর তিনি নিরাপদ একটি আশ্রয় পেলেন।

মনোয়ারা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, জামাইরে (স্বামী) বাঁচাইতে ফসলী জমি বেইচ্চে (বিক্রি) দিছি। জামাই মরার শোক শেষ অইলনা এরমধ্যে ছেড়াডাও (ছেলে) মইরা গেছে। মাইনষের বাড়িত কাম কইরে দিন চলত।

তুফান (ঝড়) যহন আমার থাহার ঘরডাও ভাইঙা ফালছে, তহন মনে হইছিন খোদাও আমার থাইক্কা মুখ হিরায়া নিছে। খোলা আসমানের নিচে কষ্টে আছিলাম। আজ নতুন ঘরে উঠ্ঠে মনে অইছে আর কয়ডা দিন নয়া কইরা বাঁচাম।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার সাব আমার মতো দুঃখী মানুষের কথা ভাইব্বে ঘর কইরা দিছে। আমি তার লাইগা দোয়া করি, আল্লাহ যাতে তারে ভালা (সুস্থ) রাহে।  

এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমাদের সমাজে এখনও অনেক মানুষ আছেন, যারা নীরবে কষ্ট সহ্য করে জীবনযাপন করেন। মনোয়ারা বেগমের বিষয়টি জানতে পেরে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি।

একজন মানুষ জীবনে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই করে টিকে আছেন।এটা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। একজন স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি বিশ্বাস করি, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে অনেক অসহায় মানুষ নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবে।

মনোয়ারা বেগমের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করতে পেরে আমি মানবিক তৃপ্তি অনুভব করছি। ভবিষ্যতেও এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।