রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোণায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

নেত্রকোণার মদনে মাদরাসাছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান গত ১৬ মে ঢাকার সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) অফিসে গিয়ে ১৭ মে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা প্রদান করেন। নেত্রকোণা সদরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে […]

নেত্রকোণায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

নেত্রকোণায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

নিউজ ডেস্ক

২২ মে ২০২৬, ১০:৫৭

নেত্রকোণার মদনে মাদরাসাছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান গত ১৬ মে ঢাকার সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) অফিসে গিয়ে ১৭ মে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা প্রদান করেন।

নেত্রকোণা সদরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি জানান।

ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মে নেত্রকোণা থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে ১৭ মে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দিয়েছেন। বর্তমানে আসামি জেল হাজতে রয়েছেন। আগামী ২৮ জুন এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার আসামিকে ঢাকার সিআইডি অফিসে নিয়ে গিয়ে, তার ডিএনএর নমুনা দিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসলে আমরা আমাদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুটি মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তাকে মদন উপজেলা হাসপাতাল রোডের স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের চেম্বারে নিয়ে গেলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল মেয়েটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে সাগরের ভাই আদালত থেকে জামিন নেন।

মামলা দায়েরের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন সন্ধ্যায়ই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে নেত্রকোণার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত ১০ মে বিকেলে আসামিকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই গত ১৭ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামির ডিএনএ স্যাম্পল জমা দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রকৃত চিত্র পর্যবেক্ষণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গত ১১ মে (সোমবার) মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)’-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল নেত্রকোণায় ভুক্তভোগী শিশুর বাড়ি পরিদর্শন করেন। দলের সদস্য সিনিয়র স্টাফ ল’ইয়ার সেলিনা আক্তার ও ইনভেস্টিগেটর তাওহীদ আহমেদ রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বর্তমানে ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার মা আদালতের কাছে সুরক্ষার আবেদন জানান। মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে বিকেলে বিচারকের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়ে (সেফ হোম) পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন ও নিরাপদ হেফাজতে রয়েছে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।