মজনুর রহমান , মেহেরপুরঃ
মেহেরপুরের গ্রামে গ্রামে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে স্কচটেপে মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু, সঙ্গে চাঁদা দাবি করে হত্যার হুমকি দিয়ে লেখা চিরকুট আর কাফনের কাপড়| চলতি মে মাসে গাংনীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদার দাবীতে বোমা, চিরকুট ও কাফনের কাপড় রেখে যাওয়ার ঘটনায় এ নিয়ে এই উপজেলার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে| তবে পুলিশ বলছে বিষয়টি তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে|
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে একটি ˆবদ্যুতিক খুঁটির পাশে লাল স্কচটেপে মোড়ানো একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ| ওই গ্রামে এর আগে বেশ কয়েকটি বোমাসহ চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ|
গত ৬ মে সকালে গাংনীর সীমান্তবর্তী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাজিপাড়ায় সানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির গেট থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ| এ বিষয়ে সানোয়ার হোসেন বলেন, বোমা গায়ে লেখা ছিল ‘হাত দিলেই ব্রাস্ট|’ তবে কে বা কারা, বোমা রেখেছে তিনি তা জানাতে পারেননি|
১৭ মে রবিবার সকালে একই উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা হাজিপাড়া এলাকায় বোমা, কাফনের কাপড় ও ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবি করা চিরকুট স্থানীয়দের চোখে পড়ে| দুর্বৃত্তরা ওই গ্রামের ইউসুফ আলীর বাড়ির প্রবেশপথে এসব রেখে যায়| ইউসুফের পরিবারের সদস্যরা এসব বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানান| পুলিশ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোমা, কাফনের কাপড় ও চিরকুট উদ্ধার করে|
১৮ মে সোমবার সকালে গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামে বাবলু মিয়ার মুদি দোকানের সামনে থেকে দুটি বোমাসদৃশ বস্তু ও এর সঙ্গে গ্রামের ১৮ বিএনপি নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে হত্যার হুমকিসংবলিত চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ| লাল স্কচটেপে মোড়ানো বোমা ও চিরকুট দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন| ইতোপূর্বে ওই দোকানের সামনে ৪ থেকে ৫ বার বোমা ও চিরকুটের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে|
২০ মে বুধবার সকালে চরগোয়ালগ্রামে আতিকুল ইসলাম হানিফ মন্ডলের বাড়ির প্রবেশ পথের সামনে থেকে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি বোমা সাদৃশ্য বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ গাংনীর কুমারী ডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই কামরুজ্জামান জানান, বোমা সাদৃশ্য বস্তু ও চিরকুট পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা| পরে ঘটনাস্থল থেকে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি বোমা সাদৃশ্য বস্তু ও চিরকুট পলিথিন ব্যাগে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়৷ সেটি উদ্ধার করে পানি ভর্তি বালতিতে নিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে৷
পুলিশ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, বিগত কয়েক মাসের ব্যবধানে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০টির কাছাকাছি বোমা ও হুমকি দেওয়া চিরকুট কিংবা কাফনের কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে| একের পর এক এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে| তবে গাংনী এলাকায় বোমা রেখে যাবার ঘটনাটি বেশি|
মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক বলেন, উদ্ধার করা বস্তুগুলো বোমা কি না, সেটি পুলিশ এখনো জানাতে পারেনি| প্রকৃত অর্থে সেগুলো কী? সেটি না জানতে পারলে আতঙ্ক কমবে না| তবে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে|
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন| এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে| এসব বিষয়ে মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি|