মাহিনুর ইসলাম , বড়লেখা(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পাথারিয়া চা বাগানের ভেতরে নীরবে সৌন্দর্য ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেকি লেক। সবুজ চা বাগান, শাপলায় মোড়া জলরাশি, পাখির কলকাকলি আর নির্জন প্রকৃতির মায়াবী আবহ—সব মিলিয়ে এটি যেন এক অনাবিষ্কৃত স্বর্গরাজ্য। অথচ পর্যাপ্ত প্রচার ও পরিকল্পনার অভাবে এখনো দেশের অধিকাংশ ভ্রমণপিপাসুর কাছে অচেনাই রয়ে গেছে এই লেক।
প্রায় ২৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বেকি লেকের চারপাশে সারি সারি চা গাছ যেন প্রকৃতির সবুজ দেয়াল তৈরি করেছে। লেকের জলে ফুটে থাকা সাদা-লাল শাপলা ফুল বাড়িয়ে দিয়েছে এর মোহময়তা। শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন আর বছরজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণ জায়গাটিকে করে তুলেছে আরও জীবন্ত।
স্থানীয়রা জানান, একসময় শুধুই চা শ্রমিক ও আশপাশের মানুষের বিচরণ ছিল এখানে। এখন ধীরে ধীরে কিছু ভ্রমণপিপাসু এলেও পর্যটন অবকাঠামোর অভাবে জায়গাটি পূর্ণ সম্ভাবনা পাচ্ছে না।
স্থানীয় এক যুবকের ভাষায়, “বড়লেখায় অনেক সুন্দর জায়গা আছে, কিন্তু প্রচারের অভাবে মানুষ জানে না। বেকি লেককে ঘিরে উন্নয়ন হলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হতে পারে।”
নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক শাহিদ নেওয়াজ বলেন, “পরিকল্পিতভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এখানে দর্শন টাওয়ার, নৌকা ভ্রমণ, বিশ্রামাগার ও স্থানীয় পণ্যের ছোট বাজার গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে যেমন পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে, তেমনি স্থানীয় তরুণদের জন্যও তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা বেকি লেক এখন শুধু সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অপেক্ষায়। যথাযথ উদ্যোগ নিলে এটি হতে পারে দেশের নতুন এক ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য।