মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাসান মামুন কেন হারলেন?

মিজানুর রহমান,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল শুধু একটি নির্বাচনি লড়াই নয়; বরং এটি দুই উপজেলার রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা, গভীর বিভাজন এবং সাংগঠনিক সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি ও তৃণমূল সংগঠনের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা নেতা হাসান মামুন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব […]

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাসান মামুন কেন হারলেন?

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৯

মিজানুর রহমান,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল শুধু একটি নির্বাচনি লড়াই নয়; বরং এটি দুই উপজেলার রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা, গভীর বিভাজন এবং সাংগঠনিক সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন।

দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি ও তৃণমূল সংগঠনের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা নেতা হাসান মামুন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে নিজ এলাকা গলাচিপায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক রাজনীতি করে শক্তিশালী একটি মাঠ তৈরি করেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালী-৩ আসনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়।

জোটের এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়। বিএনপি ও শরিক দলগুলোর ভোটব্যাংক মূলত জোট প্রার্থীর দিকে সরে যায়, যা হাসান মামুনের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। একইসঙ্গে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এসব সিদ্ধান্ত তার নির্বাচনি অবস্থানকে দুর্বল করে দেয় এবং সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যদিও স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত হাসান মামুনের পক্ষেই অবস্থান নেয়, তবে জোট প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার সক্রিয় ছিলেন। ফলে ভোট বিভাজন সৃষ্টি হয়, যা হাসান মামুনের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসান মামুনকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পরিবর্তে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হয়। এতে অনেক সাধারণ ভোটারের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগও ওঠে, যা প্রচার কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে।

এদিকে গলাচিপা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুরোনো ও নতুন মামলা দায়েরের ঘটনায় দলটির কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় প্রায় ৪৬ বছর পর এই আসনে তাদের ভোট একটি বড় নির্ধারক শক্তিতে পরিণত হয়। ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত ভিপি নুরুল হক নুরের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নির্বাচনের আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির বহু ত্যাগী নেতাকর্মী বহিষ্কার হন এবং একাধিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন কমিটি গঠন করা হলেও এসব কমিটির নেতারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে জোট প্রার্থীর পাশে দাঁড়ান। তবে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলে এক ধরনের অস্বস্তি ও সম্ভাব্য সংঘাতের শঙ্কা রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যারা বছরের পর বছর হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছে এই নির্বাচন ছিল মূল্যায়নের একটি বড় পরীক্ষা। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পটুয়াখালী-৩ আসনে বিজয়ী হন বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর। অপরদিকে হাসান মামুনের পরাজয়ের পর তার সমর্থক ও বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও স্থানীয় মানুষের কাছে হাসান মামুন পরিচিত একজন সেবামুখী সমাজসেবক হিসেবে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব আন্দোলনে নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো, করোনা মহামারিতে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, শীতকালে কম্বল বিতরণ, পথশিশুদের সহায়তা, ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ বিনোদনে যুক্ত করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি—সব মিলিয়ে তার মানবিক কর্মকাণ্ড এলাকায় আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দিয়ে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনের এই নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমন, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ছাড়া দলীয় ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এই আসনের নির্বাচন তাই বিএনপির সামনে এক কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা—যেখানে বিজয়ের পাশাপাশি বিভাজন ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে এসে দাঁড়িয়েছে। দল ঐক্যের পথে ফিরতে পারবে, নাকি এই বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর সংকট তৈরি করবে—সেই প্রশ্নই এখন পটুয়াখালী-৩ এর মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।