মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ
তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা মুখী উদ্যোগ নেয়া হলেও মেহেরপুরে কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না তামাকের উৎপাদন ও বিপণন। বিভিন্ন তামাক কোম্পানিগুলোর নানামুখী প্রচারণা ও প্রণোদনার কারণে চাষিরা ঝুঁকছেন তামাক চষে।
সবুজের আড়ালে প্রতিটি পাতায় পাতায় নিকোটিন নিয়ে বেড়ে উঠছে একেকটি তামাকের চারা। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, জমির উর্বরতা ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জেনেও তামাক চাষে ঝুঁকছেন চাষীরা। এদিকে চোখের সামনে তামাক চাষ হলেও তা রোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কৃষি বিভাগ এমনি অভিযোগ সাধারণ চষিদের।
বিভিন্ন তামাক কোম্পানীর মাঠকর্মীদের তথ্য মতে, মেহেরপুর অঞ্চলে এবার ২৬ শ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুন।
তামাক কোম্পানী গুলোর শর্ত সাপেক্ষে কীটনাশক প্রদানম চুল্লি তৈরীর জন্য টাকাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের জন্য চাষীরা ঝুকে পড়েছে তামাক চাষে বলে জানিয়েছেন কোম্পানীর রেজিষ্টেশন ভুক্ত চাষীরা। তাছাগা কোম্পানীগুলো তামাক ক্রয়ের নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন মাঠে তামাক চারা বেড়ে উঠেছে। আবার কোথাও কোথাও তামাক পাতা স্যাঁকার জন্য তোলা হচ্ছে চুল্লী। এসব চুল্লীতে বিভিন্ন ধরনের পলিথিন ও ঝুটকাপড় পোড়ানো হয়। ফলে বিকট গন্ধে বাতাস দুষিত হয়। গেল বছরের তুলনায় এবার বেশি তামাক চাষ হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন চাষিরা।
বিভিন্ন তামাক কোম্পানীর লোকজন বিভিন্ন ধরণের প্রনোদনা দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে সার কীটনাশক পলিথিন ও নগদ টাকা। চাষিরা তামাক বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করে থাকেন। মোটা অংকের টাকার লোভে চাষিরা তামাক কোম্পানীর কথায় তামাক চাষ করছেন।
কুঞ্জনগরের তামাক চাষি শামসুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন। তামাক চাষে লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে তামাক চাষে খরচ হয় ৭/৮ হাজার টাকা এবং তামাক ভালো হলে ৫-৬ মণ তামাক পাওয়া যায়। সব বাদ দিয়ে প্রচুর টাকা লাভ হয়। তামাক চাষে যাযা লাগে সবই কোম্পানীর লোকজন দেয়। ফলে তামাক চাষ অত্যন্ত সহজ।
কৃষক দাউদ হোসেন জানান, এক কোম্পানির সাথে চুক্তি হয়েছে সব খরচ ওনাদের। উৎপাদিত তামাক বাজার মূল্য ধরে যা দাম হবে ওনাদের খরচ বাদ দিয়ে বাকি টাকা দিয়ে তারা তামাক নিয়ে যাবে। একই কথা জানালেন শিমুলতলার চাষি মনিরুল ইসলাম ও সেকেন্দার আলী। চাষিদের অভিযোগ, কৃষি অফিস তামাক চাষের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে না।
মেহেরপুর ক্যাবের প্রেসিডেন্ট রফিকুল আলম জানান, তামাক চাষ শুধু ক্ষতিকরই না অত্যন্ত অলাভ জনক। তামাক চাষের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খরচ হিসেবে করলেই তার প্রমান মিলে। তাছাড়া তামাকের উচ্ছিষ্ট অংশ হৃদপিন্ডে ঢুকে ক্যান্সার সহ মরণ ব্যাধি হতে পারে।
তামাক চাষ স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এমন প্রশ্নের জবাবে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিডি দাস জানান, তামাক নানাভাবে স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।
যারা তামাকের পরিচর্যা করে তারাও নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। ধুমপায়ীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে হাপানি ফুসফুসে প্রদাহ ও ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রন্ত হন তারা।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান জানান, এবার এ অঞ্চলে এক হাজার ২৬৯৪ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। আমরা বিভিন্নভাবে তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। আমরা তামাকের বদলে অন্য ফসল চাষ করার জন্য তাদেরকে বলছি।
তবুও কিছু কিছু তামাক কোম্পানি কৃষকদের প্রভাবিত করছে। তবে অনেকেই তামাকের পরিবর্তে ভুট্টা আবাদে আগ্রহী হয়েছেন। আগামীতে তামাকের আবাদ অনেকটা কমে যাবে বলেও আশাবাদী তিনি।