নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ না করা সম্পদের মালিকদের ভবিষ্যতে শাসক হিসেবে দেখতে চান না দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। একই সঙ্গে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, আগামী দিনের শাসকরা যেন ন্যায়নিষ্ঠ হন। রোববার জানুয়ারি এগারো তারিখে দুদকের সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুই হাজার আট সালের নির্বাচনি হলফনামায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সম্পদের বিবরণ দিয়েছিলেন, বাস্তবে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তার বিস্তর ফারাক ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময় যদি দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করত, তাহলে তখনই তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটি হয়নি। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনকালীন সম্পদ যাচাইয়ের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক ছাড় দেওয়ার বাস্তবতার দিকটি তুলে ধরেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য যাচাইয়ে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা চান দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা কমিশনের পক্ষে কঠিন। কোনো প্রার্থীর সম্পদের বিষয়ে সাংবাদিকদের যদি সন্দেহ থাকে, তাহলে সেই তথ্য আগে দুদককে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আপনারাও অনুসন্ধানকারী, তাই তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের সহায়তা করুন। হলফনামায় উল্লেখ না করা সম্পদের মালিকরা যেন আগামী দিনে শাসক হয়ে না ওঠে, সেটাই দুদকের অবস্থান।
আগামী দিনে ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন এমন প্রত্যাশা জানিয়ে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, সবার জন্য সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই দুদকের মূল লক্ষ্য। একটি সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দুর্নীতি নিরসন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, যারা ভবিষ্যতে শাসক হবেন, তাদের অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে, এর বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহ্সান ফরিদ এবং সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীমসহ অন্যান্যরা।