রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বরগুনার আমতলীর ঐতিহ্যবাহী চুনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সকল বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। টানা চারবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবারের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে চুনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। একই সঙ্গে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এড. মোঃ মাহবুব উল আলম। এছাড়া শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হয়েছেন মোঃ আবদুল হাই, শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক হয়েছেন মাকসুদুর রহমান, শ্রেষ্ঠ স্কাউট দল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে চুনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্কাউট দল এবং শ্রেষ্ঠ স্কাউট নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ মাঈদ সিকদার।
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি মোট ১৩টি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করে। ক গ্রুপে রবীন্দ্রসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন সুদিপ্তা কর্মকার। নজরুলসংগীত, নৃত্য ও পল্লীগীতে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন দেব চন্দ্র। ইংরেজি বক্তৃতা, ইংরেজি রচনা ও বাংলা রচনায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তাসনিম মাহমুদ তাজ। খ গ্রুপে কবিতা ও বাংলা রচনায় শ্রেষ্ঠ হয়েছেন আফরা সায়বা। দেশাত্মবোধক গান, পল্লীগীতি ও নৃত্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন শ্যামাশ্রী দেখা।
এছাড়া শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা ৩২টি পুরস্কার অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক সাফল্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিউল আলম বলেন, “চুনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ ধারাবাহিক সাফল্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দক্ষ নেতৃত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা ও মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রমের ফলেই তারা বারবার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পেরেছে। এ প্রতিষ্ঠান আমতলী উপজেলার জন্য গর্ব।”
শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় অনুভূতি প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক এড. মোঃ মাহবুব উল আলম বলেন, “এ সাফল্য একক কারও নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রতিষ্ঠানটির এমন সাফল্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।