সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোশারফ হোসেন মিয়া আর নেই। শনিবার (২১ জুন) রাত ১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২১ জুন) বাদ আছর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মরহুমের পরিবারের সদস্য ও লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিপন পাটোয়ারী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্র জানায়, মোশারফ হোসেন মিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হাতিয়া-রামগতি অঞ্চলের জোনাল কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে তিনি সাহসিকতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দেন।
স্বাধীনতার পর তিনি রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর-৪) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “মোশারফ হোসেন মিয়ার মৃত্যুতে আমরা একজন দেশপ্রেমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বকে হারালাম। মুক্তিযুদ্ধ এবং রামগতি-কমলনগর অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
এ ছাড়া তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বারাকাত দুলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, কমলনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মুছাকালিমুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।