নাজমুল হক চৌধুরী, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীতে ভূমিকম্পে বাবা ছেলে সহ তিনজন নিহত ও অর্ধশত আহত। ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতি ও শহরের কয়েকটি ভবনে ফাটল ও হেলে পড়া সহ জেলা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে নরসিংদীতে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হলে পলাশ উপজেলায় আতংকিত হয়ে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় কাজম আলী (৭৫) নামে বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। নিহত কাজম আলী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই আউয়াল মিয়া।
এ ছাড়াওনরসিংদী শহরের পার্শ্ববর্তী গাবতলি এলাকায় ভূমিকম্পের সময় নির্মানাধীন বিল্ডিং এর ছাদের কার্নিশ ভেঙে পড়ে আহত ওমর ফারুক (১০) নামে এক শিশুর ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর পর বিকেলে তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বলও মারা যান। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে স্বজনরা বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বিকেলে তার বাবার ও মৃত্যু হয়।
ওমরের চাচা জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্প শুরু হলে দেলোয়ার হোসেন তিন সন্তানকে নিয়ে দ্রুত বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এসময় বাড়ির ছাদের সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। এতে ওমর ও তার বাবা গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেন। পরে বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে চিকিৎসক ওমরকে মৃত ঘোণা করেন। দুটি মেয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। এর পর মারা যায় বাবা দেলোয়ার হোসেনও।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও। পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল শহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে পলাশ ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিটের চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এ আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও শহর জুড়ে কয়েকটি বিল্ডিং ও বাসা বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। জেলা জুড়ে ভূমিকম্পের পর সর্বত্র সাধারণ সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে রাস্তায় নেমে আসে। দৌড়াদৌড়ি করে তারাতারি বহুতল ভবন থেকে নামতে গিয়েও অনেকে আহত হয়েছেন। কেউ বাড়িঘর থেকে দূরে খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন।
এদিকে শহরের লঞ্চঘাট এলাকার দিকে একটি পুরনো ভবন আংশিক ধসে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আশপাশের মানুষজন দ্রুত ভাঙা ভবন থেকে দূরে সরে যায়, ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শেফালী বেগম বলেন, “বাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখে আমরা সবাই বাইরে বের হয়ে আসি। ছোট বাচ্চারা কাঁদছিল। এখনো কেউ ঘরে উঠতে সাহস পাচ্ছে না।”
এদিকে ভুমিকম্পের পর পরই নরসিংদী জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন ইউনিট নরসিংদী শহর ও জেলা জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন, উদ্ধার ও সহায়তা অভিযান পরিচালনা করে।
এমসময় শহর পরিদর্শন কালে নরসিংদী পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ভয়াবহ এই ভুমিকম্পে জেলা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছি।
জেলা পুলিশ ভুমিকম্পের পরপরই বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ ও প্রশাসন জনগনের জান মাল নিরাপত্তায় সদা তৎপর। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো বলা যাচ্ছেনা।