সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে সীমান্তের ৯০৫/৬ এস মেইন পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে কয়েকজন বাংলাদেশি যুবক বনচৌকি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে যান। তারা সীমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়।
এ সময় বিএসএফের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন গুরুতর আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহতের খবর আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে ঠিক কী কারণে বিএসএফ গুলি চালিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দিয়েছি এবং ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।”
এই ঘটনার পর থেকে বনচৌকি সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর এভাবে গুলি চালানো আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাসে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হতাহতের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সীমান্তে “নন-লিথাল ওয়েপন” বা মরণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রায়ই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটছে।
বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।