ইন্দোনেশিয়া প্রথমবারের মতো চীনের তৈরি চেংডু জে-১০সি যুদ্ধবিমান ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম অ-পশ্চিমা যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া তাদের সামরিক আধুনিকীকরণ ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরাতন সামরিক সরঞ্জাম হালনাগাদ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়াও চলছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাজাফ্রি সাজামসোয়েদিন সপ্তাহের শুরুতে জানান, চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই জাকার্তার আকাশে উড়তে দেখা যাবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
অর্থমন্ত্রী পূর্বায় যুধি সাদেও জানান, বিমান ক্রয়ের জন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন দিয়েছে তার মন্ত্রণালয়। এটি ইন্দোনেশিয়ার সামরিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ।
চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান আন্তর্জাতিক মনোযোগ পায় ২০২৩ সালের মে মাসে, যখন পাকিস্তান এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে ভারতের ফরাসি তৈরি রাফাল জেট ভূপাতিত করেছিল বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই দেশটি এই যুদ্ধবিমানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
গত মাসে ইন্দোনেশিয়া প্রথম এই ক্রয় পরিকল্পনার কথা জানায়, যেখানে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয় ৪২টি জে-১০সি বিমান কেনা হবে। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা সরবরাহের সময়সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে আরব নিউজের মন্তব্য চাওয়া হলেও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ কনি রাহাকুন্দিনি বাক্রি বলেন,
“ইন্দোনেশিয়া এই অ-পশ্চিমা বিমান ক্রয়ের মাধ্যমে তার মুক্ত ও সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রয়োগ করছে। এটি কোনো জোট পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং কৌশলগত বিকল্পগুলো সম্প্রসারণের একটি পদক্ষেপ।”
এই চুক্তি ইন্দোনেশিয়ার আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, চীন ও পশ্চিমা উভয় দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রেখে ইন্দোনেশিয়া একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?