মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

জামায়াতসহ চার দলের ১২ দিনের গণমিছিল কর্মসূচি

‘সংবিধান আদেশ’ জারি করে জুলাই জাতীয় সনদের বিধিগুলো নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়টি নির্বাচনের আগে গণভোট করিয়ে জুলাই সনদকে অধিক আইনি ভিত্তি দেওয়া। তাদের বিবেচনায়, যদি এসব না করা হয় তবে ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত অভ্যুত্থানের অর্জন সংগ্রহশূন্য হয়ে পড়বে।

নিউজ ডেস্ক

০১ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৩৯

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ চারটি দল আবারও একযোগে ১২ দিনের অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে নিয়ে ওই কর্মসূচি আগামী ১ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন গণসংযোগ, গণমিছিল ও স্মারকলিপি প্রদানসহ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান আকারে চলবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির খুঁটিনাটি উপস্থাপন করা হয় এবং নেতারা দৃঢ়ভাবে বলেন, জনগণের দাবি বাস্তবায়ন না করলে আন্দোলন থামবে না।

সংগঠিত কর্মসূচির মধ্যে ১ থেকে ৯ অক্টোবর পাঁচ দফা দাবির পক্ষে জনমত গড়ার লক্ষ্যে গণসংযোগ থাকবে; ১০ অক্টোবর ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরে একযোগে গণমিছিল, এবং ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান রয়েছে। পাশাপাশি মতবিনিময় সভা, গোলটেবিল বৈঠক ও সেমিনারের আয়োজনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। দলের নেতারা উল্লেখ করেছেন, আগের মাসে তিন দিনের কর্মসূচিই পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল—তাই এবার আরও বড় স্তরে আন্দোলন তীব্র করা হবে।

মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই জুলাই সনদকে আইনগত ভিত্তি দেওয়ার কার্যক্রমে জোর দিয়েছে। ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’কে উদাহরণ হিসেবে টেনে তারা দাবি করছেন, অতীতের নানা নজিরকে সামনে রেখে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। জটিলতা এড়াতে জামায়াত ইতোমধ্যে সরকারের কাছে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতাবলম্বে দুটি প্রস্তাবও পাঠিয়েছে—প্রথমটি ‘সংবিধান আদেশ’ জারি করে জুলাই জাতীয় সনদের বিধিগুলো নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়টি নির্বাচনের আগে গণভোট করিয়ে জুলাই সনদকে অধিক আইনি ভিত্তি দেওয়া। তাদের বিবেচনায়, যদি এসব না করা হয় তবে ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত অভ্যুত্থানের অর্জন সংগ্রহশূন্য হয়ে পড়বে।

জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মূসা প্রমুখ—যারা সকলেই দাবি করেন, ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার তৎপর না হলে জনগণের অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

পুরনো পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাহসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ একই ধারার বক্তব্য তুলে ধরেন; তিনি বলেন, ধারাবাহিক কর্মসূচি ও সংলাপ সত্ত্বেও সরকারের অংশগ্রহণ বা ইতিবাচক সাড়া নেই, যা জনগণের রক্তে প্রতিষ্ঠিত সরকারের নৈতিক ও আইনগত বৈধতা ক্ষুণ্ন করতে পারে। খেলাফত মজলিস তাদের বিবৃতিতে দেশের ‘ভয়াবহ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট’ সম্পর্কে সতর্ক করে জানান, জুলাই সনদের বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা থাকায় জাতি আজ বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হচ্ছে—তারা দাবি করেন, পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরায় চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। একই সঙ্গে জাগপা ৭ দফার নিজেদের দাবি সম্বল করে সমন্বিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং দলটির কর্মকর্তারা মিটিংয়ে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেছেন।

এভাবে আন্দোলন ফের সড়কে নামার ঘোষণাই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার বওয়া শুরু করেছে; বিশেষত যখন দাবি-দাওয়া কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে আয়োজন করার দাবি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, গণহত্যার বিচারের দৃশ্যমানতা ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নির্দিষ্ট দলগুলোর (জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের কিছু অংশ) কার্যক্রমের ওপর নিহতার বিধানসহ বিচারাভিযান চালানো। এগুলো বাস্তবায়ন না হলে রাজনীতির মঞ্চে কেবলই উত্তেজনা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

নেতাদের হুঁশিয়ারি—সরকার যদি জনগণের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে, তবে সুশৃঙ্খল হলেও বৃহৎ স্তরে ধারাবাহিক আন্দোলন তীব্র হবে; এবং কেবল কথায় নয়, মাঠের গণযোগাযোগ ও সুশৃঙ্খল কর্মসূচির মাধ্যমে তারা তাদের দাবি বাস্তবায়ন করানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আগামী দুই সপ্তাহে যে জনজমায়েত ও মিছিল-সমাবেশগুলো হবে সেগুলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ভূ-রাজনীতিকে প্রভাবিত করবে এবং তা ছাড়া ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ারও প্রবল শঙ্কা রয়েছে।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৫

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৫

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৫