রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

ভারতে আওয়ামী আস্তানা উদঘাটন, কলকাতার ডিপ স্টেটের হেফাজতে আ,লীগ নেতারা

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আস্তানা উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। তারা কলকাতায় মূল আস্তানা গেড়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে কলকাতায় অবস্থান নেওয়া এমন ৭৩৪ পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টের একটি ডেটাবেস তৈরি করেছে। এই ডেটাবেসে তাদের নাম-ঠিকানা, পাসপোর্ট ও টেলিফোন নম্বরও উল্লেখ রয়েছে। ডেটাবেসটি আমাদের হাতে এসেছে। এক […]

ভারতে আওয়ামী আস্তানা উদঘাটন, কলকাতার ডিপ স্টেটের হেফাজতে আ,লীগ নেতারা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৮

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আস্তানা উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। তারা কলকাতায় মূল আস্তানা গেড়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে কলকাতায় অবস্থান নেওয়া এমন ৭৩৪ পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টের একটি ডেটাবেস তৈরি করেছে।

এই ডেটাবেসে তাদের নাম-ঠিকানা, পাসপোর্ট ও টেলিফোন নম্বরও উল্লেখ রয়েছে। ডেটাবেসটি আমাদের হাতে এসেছে।

এক অনুসন্ধানে এ তথ্য ছাড়াও পলাতকদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পরপরই এসব নেতা ভারতে পালিয়ে যায়। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের স্ত্রী-সন্তানও সেখানে অবস্থান করছেন।

কোনো কোনো নেতা তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, বাড়ির কাজের লোকও সঙ্গে নিয়ে গেছেন। পলাতক আওয়ামী নেতাদের নাম-ঠিকানা সংবলিত এই ডেটাবেসে তাদের পরিবারের সদস্যদের তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।

ভারতে অবস্থান করা এসব নেতার মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে কথাও বলেছেন। তাদের কেউ কেউ পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। কয়েকজনকে বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত টকশোতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করতে দেখা গেছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, পলাতক নেতাদের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এসব নেতার পাসপোর্ট ৫ আগস্টের পরপরই বাতিল করা হয়েছে। এরপরও ওই পাসপোর্ট তারা কীভাবে পেয়েছেন—তা রহস্যজনক। আরো জানা গেছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করছেন কলকাতায় অবস্থানরত একাধিক পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা। অনুসন্ধানে এও জানা গেছে, পলাতকরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রথম দিকে শহরের পার্ক, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেলেও বর্তমানে তাদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব নেতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ কারণে তারা নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাইরে যাচ্ছেন না।

এদিকে কলকাতায় অবস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব নেতার পারিবারিক ব্যয়ের প্রায় পুরোটাই নিয়মিত বাংলাদেশ থেকেই যাচ্ছে। এর সিংহভাগই হুন্ডির মাধ্যমে যায় বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

পলাতক শেখ হাসিনার আশ্রয় হয়েছে দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনের সুরক্ষিত একটি বাড়িতে। বাংলোর ঠিকানা হলো ১১ রাজাজি মার্গ। বাকি আওয়ামী নেতারা আস্তানা গেড়েছেন কলকাতায়। ওবায়দুল কাদের, শেখ সেলিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মতো ক্ষমতাচ্যুত মন্ত্রী এবং শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতার বসবাস এখন কলকাতায়।

জুলাই গণহত্যা এবং বিগত ১৫ বছর ধরে গুম, খুন, নির্যাতন, বেপরোয়া দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মে জড়িত আ.লীগ নেতার পাশাপাশি ওই সরকারের শীর্ষ আমলা, পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনার, সরকারি আইনজীবীসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সামরিক বাহিনীর শীর্ষ জেনারেলরাও আশ্রয় নিয়েছেন কলকাতায়। অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৯০

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৭

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৭

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৯০