শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

যেই ক্যাম্পাসে শিবিরকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করা, সেখানে শিবিরের ভূমিধস বিজয় হলো : সিবগাতুল্লাহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নিজের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং-এর সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ফিলোসোফিতে ১৯তম হলেও তাঁকে ভাইভা বোর্ড থেকে বের করে দেওয়ার নির্মম অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে আপলোড করা […]

যেই ক্যাম্পাসে শিবিরকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করা, সেখানে শিবিরের ভূমিধস বিজয় হলো : সিবগাতুল্লাহ

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:০১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নিজের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং-এর সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ফিলোসোফিতে ১৯তম হলেও তাঁকে ভাইভা বোর্ড থেকে বের করে দেওয়ার নির্মম অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে আপলোড করা ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে জাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আল্লাহ আজকে বিজয় দিলেন। যেই ক্যাম্পাসে শিবিরকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করা, সেখানে শিবিরের ভূমিধস বিজয় হলো। আল্লাহু আকবর।’

নিচে পাঠকদের জন্য সিবগাতুল্লাহ সিবগার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“(অজপাড়াগাঁয়ের একজন গল্পটা বললেন, ছেলেটির গল্প আপনাকে সংযুক্ত করবে কিনা, জানি না!) জাহাঙ্গীরনগরের বিজয়ে খবরে জীবনের নির্মম এক ইতিহাসের কথা মনে পড়লো।

আমি ছিলাম আমার জেলার বাছাইকৃত সাথী। যাকে জাহাঙ্গীরনগর ভর্তি কোচিংয়ের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে আমি দাখিলে জিপিএ ৫ পেয়েছি। ২০০৮ সালে আলীম পরীক্ষা শেষ হতেই ডাক এলো সংগঠনের। গ্রাম ছাড়তে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোচিং করতে হবে। কিন্তু নরমাল কোনো কোচিং নয়। স্পেশাল কোচিং।

সেদিন ছিল, ভয়াবহ কালবৈশাখের রাত। থানা সভাপতি ফোন দিয়ে বললেন, এই মুহূর্তে আপনাকে থানা অফিসে অফিসে আসতে হবে। কিন্তু মা কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হতে দিবেন না এই ঝড়ের রাতে। মায়ের অবাধ্য হয়ে দায়িত্বশীলের আনুগত্য রক্ষা করতে সাইকেল নিয়ে বের হয়ে গেলাম। ভারি তুফানের মধ্যে ৬ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে থানা অফিসে গিয়ে ভেজা শরীরে হাজির হলাম। গিয়ে দেখলাম- জাহাঙ্গীরনগর থেকে ৩ জন ভাই আগেই উপস্থিত। আমি খুব অবাক হলাম- শুধু আমার সাথে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল এতো প্রত্যন্ত গ্রামে। আমাকে তারা বুজালেন জাহাঙ্গীরনগরে কেন ভর্তি হওয়া দরকার। একটা কোচিংয়ের কথা জানালেন। বললেন, ইসলামি আন্দোলনের জন্য আমাকে এই ময়দানে বাছাই করা হয়েছে।

আমিও সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। কিন্তু, ভর্তি হতে যে টাকার প্রয়োজন, সেই টাকা আমার কাছে ছিল না। মাকে নিয়ে ঢাকায় আসলাম। মা আমাকে নিয়ে মামার কাছে গেলেন। মামা বিরাট শিল্পপতি। কয়েকটা ফ্যাক্টরির মালিক। মামা কোনোভাবে আমাকে পড়াশোনা করানোর জন্য রাজি হলেন না।

তখন শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন আমার জেলার। আমি তার সাথে দেখা করলাম। উনি ইসলামি ব্যাংক থেকে ৫ হাজার টাকার অনুদান নিয়ে পাঠিয়ে দিলেন জাহাঙ্গীরনগরের কোচিংয়ে।

এক অন্যরকম পরিবেশ। সারাদিন শুধু পড়ালেখা, নামাজ, পরীক্ষা, ৩ বেলা খাওয়া আর ৫ ঘণ্টা ঘুমানো। জানালার পর্দাটাও সরানো নিষেধ ছিল। ফোনে কথা বলা নিষেধ। সারাদিন পড়াশোনার পর রাতে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ। হে আল্লাহ, তুমি জাহাঙ্গীরনগরের ময়দানকে ইসলামের জন্য কবুল করো। এবং আমাকে সেই ময়দানের জন্য কবুল করো।

মাস দুয়েক কোচিং করার পর মামা জানতে পেরে যায় আমি শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেলের সহায়তায় কোচিং করছি। মামা ছিলেন প্রচণ্ড শিবির বিদ্বেষী। মামা আমার মাকে হুমকি দিলেন। আমাকে কোচিং থেকে বের করে নিয়ে আসতে বললেন। মামার ফ্যাক্টরিতে চাকরিতে যেতে হবে বলে বাধ্য করলেন। না হলে আমাদের ফ্যামিলিতে আর এক টাকাও দিবেন না। আমার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে বলল, তুই আর পড়াশোনা করিস না বাবা। তোর মামার কথা শুন, আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমার বাবা একজন প্রতিবন্ধী। কোনোমতে সংসার চলছিল মামার সহযোগিতায়। তাই সেদিন পরিবারের জন্য নিজের স্বপ্নের কুরবানি দিয়ে দিই। বাধ্য হয়ে কোচিং ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কোচিংয়ের হাউজ পরিচালককে জানিয়ে দিলাম, পরেরদিন সকালে চলে যাব।

সারারাত ঘুমাতে পারিনি। রাত ১২টার পর গোসল করে তাহাজ্জুতে দাড়ালাম। আল্লাহর কাছে উপায় চাইলাম। কান্নাকাটি করলাম। হে আল্লাহ, আমি পড়াশোনা করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই। আমাকে তুমি একটা উপায় দাও। উপায় দাও আল্লাহ। সকালে তো আমাকে চলে যেতে হবে।

ফজর পড়ে কোচিং থেকে বের হলাম। যাওয়ার সময় আমার কোচিংমেটরা আমাকে চোখের পানিতে বিদায় দিলেন। আমার খুব কষ্ট হলো। জিপিএ ফাইভ পাওয়া স্টুডেন্ট হয়ে আমি ফ্যাক্টরির শ্রমিক হতে যাচ্ছি। আমি জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলাম তখন, যখন সারা বাংলাদেশে মাত্র সাড়ে ১৯ হাজার জন এ+ পেয়েছিলাম। আমি তার মধ্যে একজন। শিবিরের পক্ষ থেকে যে এ+ সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল, সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি শিশির মুহাম্মদ মুনির। তার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি শিবিরের কর্মী থেকে সাথী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সাথী হতে ৯ মাস লেগে যায়। এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা হইলেই বাদ। যাইহোক শিবিরের সাথী শপথ নিলাম। এরমধ্যেই আলীম পরীক্ষা শেষ করে কোচিংয়ে গেলাম। আর এসব পরিস্থিতি মুখোমুখি হলাম।

যেদিন কোচিং থেকে বের হয়ে যাচ্ছি, ভাবতেছি- আল্লাহ বুঝি আমার দোয়া কবুল করবে না। কিন্তু আমি এটা বুজতেই পারিনি যে, আল্লাহ আমার দোয়া এভাবে কবুল করবেন। আমাকে একটা দুর্ঘটনার মুখোমুখি করে পড়ালেখায় ফেরাবেন।

মামার ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার পথে আমি মারাত্মকভাবে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হই। আমার ডান হাত ভেঙ্গে যায়। আমাকে মানুষ ফুটপাতে শোয়াই রাখলেন। বাম হাত দিয়ে মোবাইল বের করে একজনকে বললাম, আমার কোচিংয়ের এক বন্ধুকে ফোন করতে৷ ফোন করা হলো। সেও আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

কিন্তু হঠাৎ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শাকিল উদ্দিন ভাই কোচিংয়ে হাজির হলেন, সবাইকে হলরুমে ডাকলেন। পরে জানতে পারলাম, আমি বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরে তিনি কোচিংয়ে গিয়েছেন। অফিসকক্ষে একটু ঘুমালেন। ঘুম থেকে উঠে অনেকটা খালি গায়ে সেন্টু গেঞ্জি পরা অবস্থায় হলরুমে দৌড়ে এলেন। দায়িত্বশীলদের বললেন, সবাইকে ডাকতে। এরমধ্যে যেই ছেলেটা আমাকে উদ্ধারের জন্য বের হচ্ছিল সেও আটকা পড়লো শাকিল ভাইয়ের কারণে।

সবাই অবাক সেন্টু গেঞ্জি পরা শাকিল ভাই, একজন শাখা সভাপতি- এই অবস্থায় কেন বৈঠক ডাকলেন। শাকিল ভাই তার বক্তব্য শুরু করলেন। বললেন, আমি একটা ছেলেকে খুঁজছি। পাচ্ছি না।।।

সবাই জিজ্ঞেস করলো কাকে?

শাকিল ভাই বললেন, ‘আমি ছেলেটার নাম জানি না। তবে এখানে এসে অফিস রুমে ঘুমানোর পর স্বপ্নে দেখলাম, একটা ছেলে কোচিং থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, আমাকে দেখে ডান হাত লুকিয়ে ফেললো। এরপর ঘুম ভেঙে যায়।’

সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলো। যে আমাকে উদ্ধারের জন্য রওনা হচ্ছিল- সে দাঁড়িয়ে বললো, ভাইয়া আমাদের এক কোচিংমেট পারিবারিক কারণে কোচিং থেকে সকালে বের হয়ে গেছে। যাওয়ার পথে এক্সিডেন্ট হয়ে তার ডান হাত ভেঙ্গে যায়। এটা শুনে শাকিল ভাই চিৎকার দিয়ে উঠলো। হে আল্লাহ, আমার স্বপ্নের সাথে মিলে গেলো। শাকিল ভাই হাউজ পরিচালককে বললেন, আপনি ওকে যেতে দিলেন কার অনুমতি নিয়ে, ওকে সেক্রেটারি জেনারেল পাঠিয়েছে।

শাকিল ভাই আমাকে উদ্ধারের জন্য লোক পাঠালেন। আমার চিকিৎসা করালেন। আমাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন। আসার পথে কোচিংয়ে নিয়ে আসলেন। বললেন, তোমার কোনো টাকা পয়সা লাগবে না। সব ফ্রি। তুমি কোচিং করো।

আমি আবার কোচিং শুরু করলাম। আমার এক্সিডেন্টের খবর শুনে মামাও কিছুটা নরমাল হলেন। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম। আল্লাহ আমাকে ফিরিয়েছেন। কোচিংয়ের সাপ্তাহিক পরীক্ষা সবাই লিখিত দিত। আমার যেহেতু ভাঙ্গা হাত, আমি মুখে পড়া বলতাম। আমার পরীক্ষা মৌখিক হতো।

কোচিংয়ে এমন অনেকেই ছিলেন। যাদের সিদ্ধান্ত ছিল, জাহাঙ্গীরনগর ছাড়া কোথাও ভর্তি পরীক্ষা দিবে না। কারণ, জাহাঙ্গীরনগরের ময়দান ছিল শিবিরের জন্য নিষিদ্ধ।

পরীক্ষার আগে আল্লাহর রহমতে আমার হাত ভালো হয়ে গেলো। আমি ফিলোসোফিতে ১৯তম হলাম। যথারীতি ভাইভাতে এটেন্ড করলাম। কিন্তু, ভাইভা বোর্ড থেকে আমাকে বের করে দেয়া হলো। ভাইভা বোর্ডে বলা হলো মাদ্রাসা এবং কারিগরি মিলে একজন নেয়া হবে। আপনার আগে আরও ৪জন আছে।

যাইহোক আমি ভর্তি হতে পারলাম না। যুগের পর যুগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি এই জুলুম করতো তারা। সেই জাহাঙ্গীরনগরের জন্য সব সময় দোয়া করতাম। আল্লাহ তুমি এই ময়দানকে কবুল করো।

আল্লাহ আজকে বিজয় দিলেন। যেই ক্যাম্পাসে শিবিরকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করা, সেখানে শিবিরের ভূমিধস বিজয় হলো। আল্লাহু আকবর।

আল্লাহর কাছে হাজার কোটি শুকরিয়া।”

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫৪৪

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫৪৪

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫৪৪

রাজনীতি

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে দুই দিনের সফরে নেপালে মামুনুল হক

দুই দিনের সফরে নেপাল পৌঁছেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। মূলত নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ রোববার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে তিনি নেপালে পৌঁছান। দেশটির বিমানবন্দরে আল্লামা মামুনুল হককে অভ্যর্থনা জানান জমিয়তে উলামা নেপালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও […]

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে দুই দিনের সফরে নেপালে মামুনুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৫

দুই দিনের সফরে নেপাল পৌঁছেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। মূলত নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ রোববার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে তিনি নেপালে পৌঁছান।

দেশটির বিমানবন্দরে আল্লামা মামুনুল হককে অভ্যর্থনা জানান জমিয়তে উলামা নেপালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত নেপালের প্রেসিডেন্ট মাওলানা শফীকুর রহমান কাসেমী।

মামুনুল হকের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাজ্য শাখার সহসভাপতি মাওলানা শায়খ সালেহ আহমাদ হামিদী এবং জাতীয় উলামা কাউন্সিল বাংলাদেশের সহসভাপতি মুফতি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

দুই দিনের সফর শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা মামুনুল হকের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

দলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৪১২