রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গকসু নির্বাচন ঘিরে আবারো প্রশ্ন—কোথায় নারী নেতৃত্ব?

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অন্যতম স্বপ্ন ছিল এখানকার ছাত্রীদের নেতৃত্ব গড়ে তোলা, যাতে তারা জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন গকসুর সর্বশেষ নির্বাচিত […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৫, ২৩:২৭

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা:

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অন্যতম স্বপ্ন ছিল এখানকার ছাত্রীদের নেতৃত্ব গড়ে তোলা, যাতে তারা জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন গকসুর সর্বশেষ নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) জুয়েল রানা। তার মতে, মেয়েদের নেতৃত্বে অনাগ্রহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হতাশাজনক। শুধু তিনি নন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক থেকে সংশ্লিষ্ট অনেকেই একই হতাশার সুরে কথা বলছেন।

২০১৩ সালে প্রথম গকসু নির্বাচনে সহসভাপতি হয়েছিলেন এমবিবিএসের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিশু এবং কোষাধ্যক্ষ হয়েছিলেন ফার্মেসি বিভাগের মৌসুমি। দ্বিতীয় সংসদে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হন আইন বিভাগের কণিকা।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে জয়ী হন ফার্মেসির খাদিজাতুত তাহিয়া সেতু। তবে এ ছাড়া গকসুর শীর্ষ পদগুলোতে নারীদের উপস্থিতি তেমনভাবে দেখা যায়নি।

চলতি বছরের ৯ আগস্ট গকসুর চতুর্থ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এবারও নারী নেতৃত্বের সংকট চোখে পড়ছে, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে জুয়েল রানা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লেখেন, ডা. জাফরুল্লাহর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও নারী নেতৃত্ব তৈরি করতে প্রশাসন এবং আসন্ন সংসদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। এ লক্ষ্যে তিনি নিজেও উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

নারী নেতৃত্বে অনাগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার মিতুর মতে, মনস্তাত্ত্বিক বাধা, কটূক্তি, ট্রলিং কিংবা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনেক ছাত্রী নির্বাচনে আসতে ভয় পায়।

তাছাড়া সামাজিক স্বীকৃতি ও পারিবারিক সমর্থনের অভাবও তাদের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক ছাত্রী নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকছে।

ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আরাফাত বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মেয়েদের কম অংশগ্রহণের অন্যতম কারণ হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা ও পর্যাপ্ত উৎসাহের অভাব। পূর্ববর্তী নির্বাচনে দেখা গেছে, একই বিভাগ থেকে দুইজন ছেলে প্রার্থী দাঁড়ালে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত।

এসব পরিস্থিতি মেয়েদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। এমনকি একজন ছাত্রী প্রার্থী হলেও তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে বিভাগ আগ্রহ দেখায় না। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় না, তখন মেয়েরা কীভাবে নির্বাচনে নামতে উৎসাহী হবে? এই অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতাই মূলত তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।”

রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক হাবিবুল্লাহ্ বেলালী বলেন, “গকসু’তে নারী নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে দুর্বল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতার যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা নারীদের স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতি বা প্রতিনিধিত্বমূলক জায়গায় এগোতে নিরুৎসাহিত করছে।

অথচ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গবি নারী নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উদাসীনতা ও নিয়মিত নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্রীরা নির্বাচন সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে।”

কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মভীরুতার বিষয়টি বেশি থাকলেও রাজনৈতিক সচেতনতা তুলনামূলক কম। তার সঙ্গে সামাজিকভাবে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্ট।

সমাজে যেখানে নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়, সেই প্রভাবও শিক্ষাজীবনে পড়ে। তবুও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গকসু নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে, যারা সমাজ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন জানান, “নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়টি শুরু থেকেই প্রশাসনের গুরুত্বের জায়গায় রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। এ ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বিশেষ সংরক্ষিত অধিকার রাখা হয়েছে।

যেমন—অনুষদ প্রতিনিধি পদে যদি দুজন নির্বাচিত হন, তবে তাদের মধ্যে একজন অবশ্যই নারী হবেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিও আহ্বান থাকবে যাতে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করে। সকলের সহযোগিতায় নির্বাচন সফল ও কার্যকর হবে।”

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব।  বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৩

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাথায় ৬টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রমতে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে। সেখানে খোলামেলাভাবে গাঁজা খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সদস্য সচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে জেরা করে। পরে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। চারুকলা বিভাগের সেই শিক্ষার্থীরা আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারী। এরপরে আহ্বায়ক হাবিবের এক মিছিলে এই ঘটনার রেশ ধরে রাতুল ও সদস্য সচিবের অন্যান্য অনুসারীদের সাথে পুণরায় বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনার সময় সদস্য সচিব মামুন সরকারকে নিয়ে কটু কথা বলার অভিযোগে বিদ্রোহী হল থেকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন সদস্য সচিব ও তার অনুসারীরা। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মাঝে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহাবুল আলম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল ও আরেক পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নেয়। এসময় ক্যাম্পাস জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

আহত তানজীম লাবিব বলেন, আমাদের সবাই অগ্নিবীণা হলের ভিতরে চলে গেলেও শাহাবুল আলম হলের গেইট বন্ধ করে দেয়ায় আমি ও ইসরাফিল ভাই ভিতরে যেতে পারি নি। এসময় অপর পক্ষের সবাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা করে ও হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি ছাত্রলীগ বিরোধী মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিকে একটা হট্টগোল শুরু হয়। যেখানে সাবেক ছাত্রলীগ করা লোকজন যারা এখন ছাত্রদলের একটি গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছে তারা ছিলো। আমি সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে এই ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা একজন যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়ে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে হাতাহাতির ঘটনা হয়।

ঘটনার বিষয়ে সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সিনিয়র জুনিয়রদের বাকবিতন্ডা থেকে আমি বিষয়টা মিমাংসার জন্য ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসি। তখন সেখানে শাখা ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতা উপস্থিত হয়ে ঘটনাকে উস্কে দেয় ও মারামারির ঘটনা ঘটায়। চিহ্নিত ছাত্রলীগ করা অনুপ্রবেশকারীরা এই ঝামেলাগুলো করছে। বারবার তারা মারামারির পথে যাচ্ছে। আমি চাই ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা হোক এবং সাবেকরা যেন ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রভাব না ফেলে।

নিজের পক্ষে ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে মামুন সরকার বলেন, যারা পূর্বে চাপে পরে ছাত্রলীগ করেছে কোন পদে ছিলো না, খারাপ কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না ও জুলাইয়ের পক্ষে ছিল তাদের মধ্যে যারা ছাত্রদলকে ধারণ করতে চেয়েছে আমি তাদের জায়গা দিয়েছি। কিন্তু অন্য পক্ষে ছাত্রলীগের সভাপতিকে রান্না করে খাওয়ানো লোকজনও আছে তারা নিজেদের বিষয়ে অভিযোগ তুলছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নিজেদের মাঝে একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে বহিষ্কৃত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে গত (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে (২৯ জুলাই) বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ২ জন আহত হয়।