সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

গাজা গণহত্যায় ইসরায়েলের প্রতি ভারতের প্রশ্নাতীত সমর্থন

জনমতের প্রবল চাপে সবচেয়ে প্রতারক ও ভণ্ড পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীও অন্তত ইরায়েলের সমালোচনা করতে বাধ্য হলেও, ভারতের চরম ডানপন্থী সরকার গর্বের সাথে তেল আবিবের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের উপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আধিপত্য সত্ত্বেও, ইসরায়েলের শয়তানি এবং অমানবিক চেহারা বিশ্বের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং এমনকি সবচেয়ে প্রতারক ও ভণ্ড পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীও জনমতের চাপে […]

গাজা গণহত্যায় ইসরায়েলের প্রতি ভারতের প্রশ্নাতীত সমর্থন

গাজা গণহত্যায় ইসরায়েলের প্রতি ভারতের প্রশ্নাতীত সমর্থন

নিউজ ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৫

জনমতের প্রবল চাপে সবচেয়ে প্রতারক ও ভণ্ড পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীও অন্তত ইরায়েলের সমালোচনা করতে বাধ্য হলেও, ভারতের চরম ডানপন্থী সরকার গর্বের সাথে তেল আবিবের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের উপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আধিপত্য সত্ত্বেও, ইসরায়েলের শয়তানি এবং অমানবিক চেহারা বিশ্বের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং এমনকি সবচেয়ে প্রতারক ও ভণ্ড পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীও জনমতের চাপে অন্তত ইসরায়েলের সমালোচনা করতে বাধ্য হচ্ছে, তখন ভারতের চরম ডানপন্থী সরকার গর্বের সাথে তেল আবিবের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

মাশরেক নিউজের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের মুসলিম-বিরোধী মনোভাবের পেছনে দখলদার ইসরায়েলের সাথে ভারতের গভীর সখ্যতা দায়ী। ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের সমর্থক রঞ্জন সুলেমান মিডল ইস্ট মনিটর ওয়েবসাইটে এক নিবন্ধে তার দেশের সরকারের এই নীতি সমালোচনা করেছেন।

প্রতারণার অস্ত্র

গত দশকে ইসরায়েলের সাথে ভারতের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আর বর্তমানে এই সংখ্যাটি বছরে ১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। ভারত এখন ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতা এবং ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত সবকিছু আমদানি করে। ভারতে রপ্তানি করা অনেক অস্ত্র প্রযুক্তি যুদ্ধের ময়দানে বিশেষ করে ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরে পরীক্ষা করা হয়েছে।

এসব অস্ত্র কিনে ভারত কার্যত ইসরায়েলের দখলদারিত্ব, বর্ণবাদী প্রাচীর, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং এখন গাজায় সংঘটিত গণহত্যাকে সমর্থন করছে।

সরাসরি গণহত্যার দৃশ্য সম্প্রচার

গাজা উপত্যকায় যা ঘটছে তা গোপন কিছু নয়। ২০২৩ সাল ৭ অক্টোবর, থেকে এ পর্যন্ত ৬১,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু। গাজার হাসপাতালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ত্রাণ সাহায্যের কনভয়গুলোতে বোমা হামলা করা হচ্ছে। যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে অনাহার ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের সাবেক পরিচালক ক্রেগ মোখিবারসহ বিশিষ্ট আইনজীবীরা এই গণহত্যাকে “ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত” বলে অভিহিত করেছেন।

ভারতের নীরবতা এবং তার চেয়েও যেটা খারাপ

৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের সাথে সংহতি প্রকাশকারী প্রথম বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছিলেন, এমনকি কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশের আগেই। ভারত সরকার গাজার বেসামরিক নাগরিকদের উপর নির্বিচারে বোমা হামলার নিন্দা করতে অস্বীকৃতি জানায় এমনকি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভকারীদের উপর কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা নেয়, ছাত্র ও অধিকার কর্মীদের বহিস্কার করে এবং যেসব শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক সাহসিকতার সাথে কথা বলছে এবং ইসরায়েলের সমালোচনা করছে তাদেরকেও নজরদারিতে রেখেছে ভারত সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য ছাত্র ইউনিয়নগুলোকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমনকি দিল্লি, মুম্বাই এবং ব্যাঙ্গালোরের মতো প্রধান শহরগুলোতে মানবিক সমাবেশগুলোও পুলিশের অনুমতি পেতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারত সরকারের এই দমন-পীড়নের সাথে ইসরায়েলি আচরণের অদ্ভুত মিল রয়েছে। যেমন: ভিন্নমতকে দমন করা এবং সমবেদনা জানানোকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা। ভারত একসময় ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিল এবং জাতিসংঘে ফিলিস্তিন মুক্তির পক্ষে কথা বলতো কিন্তু, এখন ইসরায়েলের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি বিশ্বের চোখের সামনে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান গণহত্যা চেয়ে চেয়ে দেখছে।

জনগণের কণ্ঠস্বর দমন

তবে, ভারতের নাগরিক সমাজ চুপ করে থাকেনি। দিল্লি থেকে কেরালা পর্যন্ত, স্বাধীন ও মানবাধিকার রক্ষাকারী গোষ্ঠীগুলো এবং ছাত্র সমাজ সাহসিকতার সাথে কথা বলেছে। শিল্পীরা গাজার পক্ষে ছবি আঁকছেন, আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে চিঠি লিখেছেন, শিক্ষকরা ফিলিস্তিনের পক্ষে সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং মুসলিমরা সারা দেশজুড়ে নামাজের মাধ্যমে দোয়া করছেন। যদিও তারা সরকারি দমন, ডিজিটাল নজরদারি এবং মিডিয়া আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছেন। সংবাদ চ্যানেলগুলো প্রতিবাদকারীদেরকে ভারতীয় “জাতীয়তাবাদবিরোধী” বলে অভিহিত করেছে। পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের হয়রানি বা আটক করার জন্য বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিশেষ আইন (UAPA) ব্যবহার করছে। সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ এবং সেন্সর করা হচ্ছে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

ভারতের কেন তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা উচিত

ভারত নিজেই ঔপনিবেশিক শাসনের শিকার হয়েছিল। তাই তারা দখলদারিত্বের কুপ্রভাব, বিভাজনের ক্ষত এবং সহিংসতার বোঝা এখনো বহন করে বেড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতের বিশ্বব্যাপী উপনিবেশ বিরোধী অবস্থান ধরে রাখা উচিত এবং উপনিবেশকামী দেশগুলোর পক্ষে কথা বলা উচিত নয়। ভারত যখন গাজায় ইসরায়েলের বর্ণবাদী আচরণকে সমর্থন জানাচ্ছে তখন তাদের কারো মুখে গান্ধী এবং নেহেরুকে উদ্ধৃত করে কথা বলা মানায় না। ভারত নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যায় জড়িত ইসরায়েলি গণহত্যাকারীকে সহায়তা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্বের দাবি করতে পারে না।

সূত্র : পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৮

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৮

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৮

আন্তর্জাতিক

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ!

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১৮:০৪

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১০৮