তেহরানের অস্থায়ী জুমার ইমাম আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমদ খাতামি বলেছেন, ইরানের জনগণকে ক্লান্ত ও ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখতে চায় শত্রুরা। কিন্তু আল্লাহর কৃপায় সেই স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরানি জাতি আরও দৃঢ় অবস্থানে দাঁড়াবে।
ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, বুধবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদুল আজহার নামাজের খুতবায় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে তাকওয়ার সবচেয়ে বড় প্রকাশ হচ্ছে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা এবং ক্লান্তিহীন প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া। তার ভাষায়, গত ৮৭ রাত ধরে যেভাবে ইরানের জনগণ ধৈর্য, দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের মানসিকতা দেখিয়েছে, সেটাই প্রকৃত ঈমান ও তাকওয়ার প্রতিচ্ছবি।
আয়াতুল্লাহ খাতামি বলেন, শত্রুরা চায় ইরানের জনগণ যুদ্ধ, চাপ ও অবরোধে ভেঙে পড়ুক। কিন্তু ইরানি জাতি কখনো ক্লান্ত হবে না, বরং ক্লান্তিকেই পরাজিত করবে।
খুতবায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি অপমান মেনে নেয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, অপমান মেনে নেওয়া শুধু দুর্বলতা নয়, এটি নৈতিক পতনের চরম রূপ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরা ইরানকে অপমানিত ও আত্মসমর্পণকারী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা কখনো সফল হবে না।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিহাসের অন্যতম বড় মিথ্যাবাদী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণ প্রতারণা ও মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য কখনোই প্রকৃত সংলাপ নয়, বরং চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে নতজানু করতে বাধ্য করা। তবে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে ইরানি জাতি সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আয়াতুল্লাহ খাতামি গাজা প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গাজার নিপীড়িত মানুষের সমর্থনে যাত্রা করা “সমুদ নৌবহর” মানবিক বিবেকের জাগরণের প্রতীক। অংশগ্রহণকারীরা জানতেন, ইসরাইলি বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালাতে পারে, তবুও তারা পিছিয়ে যায়নি।
তার মতে, এই ঘটনাগুলো বিশ্ববাসীর সামনে ইসরাইলের “নিষ্ঠুরতা ও মানবতাবিরোধী আচরণ” আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন, ইসরাইলি নীতিকে সরাসরি সমর্থন দিয়ে সেই অপরাধের দায়ও বহন করছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?